দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট ও বোচাগঞ্জ উপজেলার দুই পরিবারের যমজ চার বোন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ঘোড়াঘাট উপজেলার দুই বোন মুতমাইন্না সারাহ ঢাকা মুগদা মেডিকেল কলেজে এবং মুমতাহিনা সামিহা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। বোচাগঞ্জ উপজেলার দুই বোন মোছা. মুসফিকা নাসনিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এবং মাখনুন আখতার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ও দিনাজপুর জিলা স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক তাহারিমা আকতার দম্পতির যমজ কন্যাদের সাফল্যে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। ঘোড়াঘাট উপজেলার মুতমাইন্না ও মুমতাহিনা প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে পড়েছেন একই প্রতিষ্ঠানে। সব ক্ষেত্রে দুই জনের ফলাফলও একই।
মুতমাইন্না ও মুমতাহিনা জানান, প্রতিটি বিষয়ের মতো পড়াশোনার বেলায় দুই বোন একই মতের ছিলেন। যতটুকু পড়েছেন, নিয়ম মেনে বুঝেশুনে পড়েছেন। কোনো দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেননি। সব মিলে নিয়মানুবর্তিতা তাদের এ সাফল্য এনে দিয়েছে।
মা তাহারিমা আকতার বলেন, ‘আমাদের এক ছেলে, দুই মেয়ে। বড় ছেলে তাহমীদ বিন সাজ্জাদ রংপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। ছেলের মতো যমজ দুই মেয়েও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় খুব আগ্রহী। মেয়েদের সাফল্যে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মুরারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মশিউর রহমান ও গৃহিণী নাজমুন নাহারের সংসারে রয়েছে তিন কন্যা সন্তান। বড় মেয়ে বর্তমানে দিনাজপুর সরকারি কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। দিনাজপুর সরকারি কলেজে নিয়মিত অধ্যয়ন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বরাবরের মতো সফলভাবে এইচএসসি পাশ করেন তারা। এরপর শুরু হয় মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি। অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে শেষ পর্যন্ত তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন।
মুসফিকা ও মাখনুন বলেন, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত থাকতে পারি।
মা নাজমুন নাহার বলেন, তিন কন্যা সন্তান নিয়ে কখনো দুশ্চিন্তা করিনি। যেভাবেই হোক তাদের লেখাপড়া চালিয়ে গেছি।
