BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:০৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের ক্ষমতা এখন আইআরজিসির হাতে!


এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ৬:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থায় গত চার দশকের প্রথা ভেঙে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য হারিয়ে দেশটি এখন আর কোনো একক নেতার নির্দেশনায় চলছে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দুই মাসের মাথায় তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের পরিবর্তে এখন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরান একজন সর্বোচ্চ নেতার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল, যার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু যুদ্ধের প্রথম দিনেই খামেনির মৃত্যুর পর সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি বর্তমানে উত্তরাধিকারী হিসেবে শীর্ষে থাকলেও তার ক্ষমতা এখন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মোজতবা এখন আর নিজে কোনো বড় সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। বরং আইআরজিসির জেনারেলরা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তিনি কেবল সেগুলোতে সম্মতি দিয়ে বৈধতা দিচ্ছেন।

যুদ্ধের তীব্র চাপ ইরানের ক্ষমতার বলয়কে আরও সংকীর্ণ এবং কট্টরপন্থি করে তুলেছে। এখন দেশটির মূল সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং আইআরজিসির নেতাদের মাধ্যমে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানিদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত ধীর। আগে যেখানে দ্রুত সাড়া পাওয়া যেত, এখন সেখানে এক একটি বিষয়ের জবাব পেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগছে। এর প্রধান কারণ হলো, তেহরানে এখন একক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ নেই।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিলম্ব কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নয়। বরং ওয়াশিংটনের প্রস্তাব এবং আইআরজিসির অনড় অবস্থানের মধ্যে বিশাল পার্থক্যের কারণেই আলোচনা এগোচ্ছে না।

কূটনৈতিক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার নেতৃত্ব দিলেও নেপথ্যে মূল ভূমিকা রাখছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।

সাবেক এই গার্ড কমান্ডার এখন ইরানের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় অভিজাত শ্রেণির মধ্যে প্রধান যোগসূত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

তবে যুদ্ধের ময়দানে এবং প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদিকে।

এমনকি যুদ্ধবিরতির মতো স্পর্শকাতর আলোচনাতেও তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। শারীরিক অসুস্থতা এবং নিরাপত্তার কারণে তিনি কেবল অডিও বার্তা বা সহকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

গত সোমবার ইরান ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুটি আপাতত সরিয়ে রেখে আগে যুদ্ধ বন্ধ এবং পারস্য উপসাগরে নৌ-চলাচলের বিরোধ মেটাতে হবে। তবে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই পারমাণবিক বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষই এখন সময়ক্ষেপণ করছে এবং একে অপরকে দুর্বল করার অপেক্ষায় রয়েছে। ইরানের আইআরজিসি যেমন নতি স্বীকার করে দুর্বল হতে চায় না, তেমনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে খুব বেশি নমনীয় হতে পারছেন না। ফলে ইরানের নতুন এই নেতৃত্ব কাঠামো দেশটিকে আরও সংঘাতের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।