মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা দু’দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি এবং সাড়ে ৩ শতাধিক হেক্টর জমির ধান আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে।
উপজেলার আদমপুর, ইসলামপুর, পতনঊষার, মুন্সিবাজারসহ ৯টি ইউনিয়ন ও কেওলার হাওরের নিম্নাঞ্চলে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকলে আরো ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরেজমিনে পতনঊষার কেওলার হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে প্রায় ৫০০ হেক্টর বোরোধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ১ থেকে দেড় ফুট পানিতে ডুবে আছে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত।
কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, ‘গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যা হয়েছে। এতে পতনঊষারের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আদমপুরের কৃষক শাব্বীর মিয়া জানান, তার ৩৩ শতাংশ জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই অবস্থা অনেক কৃষকের। ধান কাটার উপযুক্ত সময়ে এভাবে ডুবে যাওয়ায় তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি সবজি ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হিসাবে ৭০ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি এবং ৩৫০ হেক্টর আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বোরোধান ৭০ হেক্টর ও আংশিক ৩৫০ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। তবে ক্ষতি আরো বাড়তে পারে।
