BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৫৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেট সবসময় পড়ালেখায় ফার্স্ট হতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী


এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সিলেট সবসময় ফার্স্ট হয়। তবে শুধু ডলারে আর পাউন্ডে না, পড়ালেখায়ও ফার্স্ট হতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল লন্ডনের ওয়েদারের মত উঠানামা করে।

বুধবার সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিস্টরেদর সাথে মিবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এমনটি বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে সরকার। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের শিক্ষাখাত উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করবে।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে থাকবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এই খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে এবং একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে উচ্চ বেতনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় মান নিয়ন্ত্রণ, কারিকুলামের সামঞ্জস্য এবং শিক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা যদি শুধুমাত্র বিত্তবানদের নাগালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তাহলে সামগ্রিকভাবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় দেশের প্রতিটি শিশুই মানসম্মত শিক্ষা পাবে সে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক না কেন। এজন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার, এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

সভায় তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার একা সব করতে পারবে না—শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করা হবে বলেও এসময় জানান শিক্ষামন্ত্রী।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ জায়গা দিলে উনার নামে স্কুল করে দেবো। বিল্ডিং আমরা করবো।

ফেসবুকে তাকে নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ম্যানেজমেন্ট কমিটি নিয়ে আমাকে তুলোধুনো করা হচ্ছে ফেসবুকে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল করার পর আমাকে নিয়ে কত ট্রল হলো। আজকাল আমার কিছু পেলেই হলো ফেসবুকে। সেই নির্বাচনের আগে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমি আমার এলাকয় গিয়ে বাচ্চাদের বলেছি, ‘তোমাদের জায়মাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে’। কারণ পুতুলকে যদি প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয়! তাই আমি আমার এলাকায় গিয়ে রাজনৈতিকভাবে এই কথা বলছি। তাও নির্ব্চনের আগে। এখন এটা নিয়ে আমাকে ট্রল করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগামীদিনের পধানমন্ত্রী কে হবেন এই স্বপ্ন তো আমরা দেখতেই পারি। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেই স্বপ্ন পুরণ হয়েছে। আল্লাহ কবুল করলে সেও (জায়মা রহমান) প্রধানমন্ত্রী হবে, আমি হয়তো বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা নিজের বিশ্ববিদ্যালয় খবর না নিয়ে আমার নামে পোস্ট করেন মন্ত্রী ব্যর্থ। এখন শিক্ষকরা মন্ত্রীদের খাতা দেখা শুরু করে দিয়েছে।

কোচিং সেন্টারকে আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা ফেইলিওর হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে যায়। শিক্ষকরা ভাল করে পড়ান না বলেই নকল করে।

তিনি বলেন, আগের দিনে জেলার স্কুলগুলো ছিল নাম্বার ওয়ান। কারণ ডিসি-এসপিদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করত।

মতবিনিময় সভায় তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সেই আর্থিক শক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে একই অঞ্চলের ভেতরেই সুযোগের অসম বণ্টন দেখা যাচ্ছে।

এসময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মন্ত্রী আরিফুর হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, ডেপুটি কমিশনার সারওয়ার আলম, শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।