জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধানের দাবিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সিপিবি সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে ও বাসদ(মার্কসবাদী) জেলা সদস্য সুমিত রঞ্জন দাস পিনাক এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, সিপিবি জেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এর সম্পাদক সিরাজ আহমদ,বাসদ(মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস,বাসদ জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের ডাঃ হরিদন দাস, প্রমূখ
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের হয়ে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে গাড়িভাড়া, পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় বিদ্যুতের দাম এবং কৃষি ও গণপরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গিয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের প্রধান জ্বালানি ডিজেলের দাম ১৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের গভীর সংকটে ফেলবে। অন্যদিকে পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা, অকটেনের দাম ১৬২ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের জ্বালানির উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫ টাকা করায় জনজীবনে চরম সংকট সৃষ্টি হবে।তারা বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক হিসাবেও বড় অঙ্কের মুনাফার চিত্র রয়েছে। গত ১১ বছরে সংস্থাটি প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। কোনো কোনো বছর মুনাফার পরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে বিপুল অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেই মুনাফার অর্থ দিয়ে কোনো আপৎকালীন তহবিল গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, যা তাদের গণবিরোধী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। তারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জোর দাবি জানান।
