BD SYLHET NEWS
সিলেটশুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৫৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাস করেও একাদশে ভর্তির আবেদন করেনি লাখের বেশি শিক্ষার্থী


আগস্ট ১৯, ২০২৫ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিডিসিলেট ডেস্ক : আসন্ন শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে পৌনে ১১ লাখ শিক্ষার্থী। যদিও এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন পরিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কারিগরিতে উত্তীর্ণ এক লাখের মতো পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাদ দিয়ে হিসাব করলেও এক লাখের বেশি পরীক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আবেদনই করেনি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩৬ ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশিত হবে আগামীকাল বুধবার।শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন টিউশন

গত ১০ জুলাই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬। এর মধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ ৬ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরও জানা যায়, সারাদেশে কেবল কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি। এর অর্থ, যদি সব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, তবুও একাদশে বিপুল আসন ফাঁকা থাকবে।

ঢাকা বোর্ডে এই বছর ৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, পাস করেছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ জন; মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩; কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫, ছাত্রী ৩৪ হাজার ৯২৮; যশোর বোর্ডে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯। ছেলে ৪৬ হাজার ৫৮৭ এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৭৩২।

চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৩। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৭১.৯৩ শতাংশ, ছাত্রীদের পাসের হার ৭২.১৯ শতাংশ; কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭২। পাস করেছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৮১। এর মধ্যে ছেলেদের মধ্যে পাস করেছে ৪৩ হাজার ৭৮০, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪০৭; বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৮৪ হাজার ৭০২। অংশগ্রহণ করেছেন ৮২ হাজার ৯৩১ এবং উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৫৮; ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১ হাজার ৪৫৬। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ৭৭২ ছেলের মধ্যে ২৯ হাজার ৬১২ এবং ৫১ হাজার ৭৮৬ মেয়ের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৪৪।শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন টিউশন

দিনাজপুর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭। অংশগ্রহণ করেছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩৪। ছাত্র ৯২ হাজার ৯৪২, ছাত্রী ৮৯ হাজার ২৯২। পাস করেছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৪৬, ছাত্র ৫৯ হাজার ৮৪০, ছাত্রী ৬২ হাজার ৩০৬। ফেল ৬০ হাজার ৮৮; সিলেট বোর্ডে ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, উত্তীর্ণ হয়েছে ৭০ হাজার ৯১।

অন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৯ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশে মোট আসন ২২ লাখ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পর্যায়ে প্রায় ৯ লাখ এবং সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিকে ২ লাখ ৪১ হাজার আসন। মোট একাদশে ভর্তিযোগ্য আসন প্রায় ৩৩.২৫ লাখ। তবে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন শিক্ষার্থী।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত আট দিনে সরকারি ও বেসরকারি কলেজে একাদশে ভর্তি আবেদন করেছে ৮ লাখ ৬২ হাজার ১৫৬। ঢাকা বোর্ডে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৩, মাদ্রাসা বোর্ডে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৬৭, কুমিল্লা বোর্ডে ৭৬ হাজার ৫১১, রাজশাহী বোর্ডে ৯৫ হাজার ৬০৭, যশোর বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৬, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭৭ হাজার ৯৫৩, বরিশাল বোর্ডে ২৯ হাজার ৭৫৩, সিলেট বোর্ডে ৫১ হাজার ৮২২, দিনাজপুর বোর্ডে ৮২ হাজার ৭২৬, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৪২ হাজার ১৬৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

এদিকে, রাজধানীর নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সব কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশে ভর্তির বাছাই কাজ চলছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় অনলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তির কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন টিউশন

ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা হয় না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিয়ে শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা মাদ্রাসার পছন্দক্রম নির্বাচন করে আবেদন করে। একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করেছে, তার মধ্যে মেধা, প্রযোজ্য কোটা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার অবস্থান নির্ধারিত হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভর্তির কাজ আলাদাভাবে সম্পন্ন হয়।

অতীতে দেখা গেছে, প্রথম পর্যায়েই প্রায় সব শিক্ষার্থী আবেদন করে। তবে পছন্দক্রম ও ফলাফলের সামঞ্জস্য না থাকায় অনেকে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয় না। পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী আবেদনও করে না। তাই দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়েও ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেও অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার অন্যবারের তুলনায় বেশি। ঢাকা বোর্ডের এক জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর প্রায় ৪১ শতাংশের বিয়ে হয়ে গেছে। পাস করেও ভর্তি না হওয়ার কারণে বাল্যবিবাহসহ ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নূরুন্নবী আলম বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পাশ করে বিদেশে চলে যায়, কেউ বিবাহিত, কেউ পড়ার আগ্রহ হারায়। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন টিউশন

তিনি আরও জানান, গত ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ লাখ ৪২ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেছে, এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ভর্তি হয়েছে, বাকিরা ভর্তি হয়নি।

এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য আবেদন না করার কারণ জানতে চাইলে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, এখনও শিক্ষার্থীদের আরও দুই ধাপে আবেদন করার সুযোগ আছে তাই এ সময়ের ভিতর হয়ত তারা আবেদন করবেন। যেহেতু আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়নি তাই এর প্রকৃত সংখ্যা ও কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।