BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:৩৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেড়শ টাকার বাঁশ থেকে ৩০ লাখের পুঁজি সুইটির


মার্চ ৮, ২০২৬ ১:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বছর তিনেক আগের কথা। চাকরি ছেড়ে নিজে কিছু করার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সুইটি সূত্রধরের। শখ থেকে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেন বেত-বাঁশ নিয়ে। তাঁর স্বপ্নের শুরু দেড়শ টাকার বাঁশ দিয়ে। বাঁশের তৈরি কুটির শিল্প নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। অল্প সময়ে কারু শিল্পে সফলতার মুখ দেখতে পাওয়া এই নারী উদ্যোক্তা বাস করেন শহরতলির মেজরটিলায়। স্বামী সঞ্জীব কর্মকার ব্যবসার সুবাদে থাকেন হবিগঞ্জের নোয়াপাড়ায়।

সুইটি জানান, শুরুতে কুটির শিল্প নিয়ে অনেকে অনাগ্রহ দেখান। বেত-বাঁশের জিনিস কে কিনবে? লোকজনের এমন অনাগ্রহকে অগ্রাহ্য করে থেমে থাকেননি তিনি। একাই সংগ্রাম শুরু করেন। তিন বছরেরও কম সময়ে সফল হন এ নারী উদ্যোক্তা। তাঁর ব্যবসার পুঁজি এখন অন্তত ৩০ লাখ টাকা।

সিলেট শহরতলির তামাবিল বাইপাস সড়কের পাশে পূর্ব কল্লগ্রাম এলাকায় ‘এসএস গ্যালারি ক্রাফট’ নামে তাঁর প্রতিষ্ঠানের শোরুম রয়েছে। পাশে রয়েছে একটি কারখানা। সেই কারখানার একটি কক্ষে আবার শুরু করেছেন লেদ মেশিন দিয়ে লোহার জিনিসপত্র তৈরি। তাঁর কারখানায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে বর্তমানে ১৫ জন কারিগর কাজ করছেন। সুইটি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে যেদিন ১০০ লোক কাজ করবে সেদিন তিনি সফল বলে মনে করবেন। সেই চেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর প্রতিষ্ঠান।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করা সুইটির বাবার বাড়ি বিশ্বনাথে। এক সন্তানের জননী সুইটি বাস করছেন মেজরটিলা এলাকায়। ২০১৪ সালে নিজ এলাকা বিশ্বনাথে সমবায় সমিতিতে চাকরি শুরু করেন সুইটি। ২০২১ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজে গড়ে তুলেন রাইজ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি। শখের বশে বিভিন্ন মাধ্যমে আগ্রহ জন্মে কুটির শিল্পের দিকে। অনলাইন ও ইউটিউব দেখে চেষ্টা করেন শেখার। নেন প্রশিক্ষণও। সিলেটে বেত ও বাঁশ পাওয়া সহজলভ্য হওয়ায় তাঁর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ২০২৩ সালে নিজের সমিতি থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ১৫০ টাকা দিয়ে কেনেন একটি বাঁশ। সেই বাঁশের শিল্প দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তাঁর। সরকারের সমবায় অধিদপ্তর থেকে আর্থিক সুবিধা না পেলেও ব্যাংক থেকে নেন ঋণ।

অভিজ্ঞতা না থাকায় পণ্য নিয়ে বিপত্তিতে পড়েন সুইটি। পরে একে একে তৈরি করেন বাঁশ বেতের শোপিস তথা–ঘড়ির ফ্রেম, ওয়ালম্যাট, লুকিং গ্লাসের ফ্রেম, ট্রে, ফুলদানি, লাইটের ফ্রেম, বাঁশ-বেতের বিভিন্ন ধরনের ফ্রেম, আসবাব, সোফা সেট প্রভৃতি। আসতে থাকে অর্ডারও। সেই অনুযায়ী মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে সিলেটের এক সময়ের জমিদার নবাব আলী আমজাদের ঘড়ি ও শখের ঘরোয়া আসবাব।

সুইটি এখন যেমন দক্ষ কারিগর, তেমনি প্রশিক্ষকও। নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাঁশ-বেত শিল্প নিয়ে। অল্প সময়ে তিনি ব্যবসায় যেমন সফলতা এনেছেন, তেমনি পেয়েছেন সম্মাননাও। বিসিক মেলা, জলবায়ু মেলা, উদ্যোক্তা ও পর্যটন মেলায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন সেরা স্টলের সম্মাননা। তাঁর এগিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাবে–এমন প্রত্যাশা কুটির শিল্পে জড়িতদের। বিদেশের মাটিতে দেশি বাঁশ-বেতের শিল্প নিয়ে সুইটি সূত্রধর পা দেবেন–এমন স্বপ্নও তাঁকে হাতছানি দিচ্ছে। সুইটির মতে, নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগালে সফল হওয়া সম্ভব। তিনি স্বপ্ন দেখছেন, একদিন তাঁর কারখানায় ১০০ শ্রমিক কাজ করবে। বেত-বাঁশ একদিন তাঁকে আরও সুখ্যাতি ও পরিচিতি এনে দেবে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।