সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সরাইল রিজিয়ন ১৩টি বিজিবি ব্যটেলিয়ন গত ৯ মাসে অস্ত্রসহ ৯৩১ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির পিএসসি।
তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মূলমন্ত্র “মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা” বুকে ধারণ করে এবং মহাপরিচালক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় “বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” এই প্রত্যয়ে বিজিবি দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে যা ভবিষ্যৎতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) এর উদ্যোগে মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে এই তথ্য জানান।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তের ৪ টি সেক্টর সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীনস্থ ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিজিবি সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে গত ৯ মাসে সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়নের উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন কর্তৃক গত জানুয়ারি ২০২৬ হতে আজ পর্যন্ত ১১টি পিস্তল (৯ টি ম্যাগাজিনসহ), ৭টি এয়ারগান, ৫টি পাইপ গান, ৬২ রাউন্ড কার্তুজের পাশাপাশি ১৯ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৫৯২ টাকা।
মাদকের বিরুদ্ধে সরাইল রিজিয়নের ১৩ টি ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন অভিযানে সর্বমোট ৩ লক্ষ ১২ হাজার ৯১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৩ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ৬২ হাজার ৬৭৬ বোতল বিদেশি মদ এবং বিয়ার, ১৫ হাজার ৫৮১ বোতল ফেন্সিডিল ও ইস্কাফ সিরাপ, ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৭১ পিস বিভিন্ন প্রকার যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং ১৬৯ লিটার চোলাই মদ আটক করা হয়।
এসব ঘটনায় ৩০৫ জন আসামীকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরাইল রিজিয়নের অন্তর্গত ময়মনসিংহ ও সিলেট সেক্টরের সীমান্তসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন প্রতিরোধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে ১৫ হাজার ৯০০ ঘনফুট পাথর ও ৭ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে জরুরি ত্রাণসামগ্রী দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও সীমান্ত এলাকার তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সিলেট সেক্টরের উদ্যোগে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি চোরাচালানের বিরুদ্ধে সীমান্তবাসীর সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার রোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানুষের কল্যাণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশর নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।
