BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিময় জায়গা মসজিদ


সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৮:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মানুষ শান্তি প্রিয়। তাই শান্তির খোঁজে মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরে- কেউ খোঁজে ধন-সম্পদে, কেউ খ্যাতির শিখরে, কেউ আবার সম্পর্কের উষ্ণতায় আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু প্রকৃত মুমিনের হৃদয় শান্তি খুঁজে পায় এক ভিন্ন জগতে-মসজিদের পবিত্র পরিবেশে। যেখানে দুনিয়ার কোলাহল স্তব্ধ হয়ে যায়, আর বান্দা তার রবের সান্নিধ্যে নিজেকে সঁপে দেয়। কেননা মসজিদ ঈমানের কেন্দ্র, আত্মশুদ্ধির পাঠশালা এবং আল্লাহর রহমতের এক অবিরাম উৎস। যারা এই ঘরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে, তারা আসলে আল্লাহরই প্রিয় বান্দা, যাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদসমূহ আর সবচেয়ে খারাপ জায়গা হলো বাজারসমূহ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪১৪)

তাই আল্লাহর নেক বান্দাকে মসজিদ সব সময় আকর্ষণ করে। তারা প্রতি মুহূর্তে মসজিদে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। কখন মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার বলে মহান আল্লাহর ঘরের দিকে আহবান করে, সেই সময়ের অপেক্ষায় থাকে।

তারা মসজিদে সুখ খুঁজে পায়। আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করলেই তাদের মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে, যা তাদের ইবাদতের একনিষ্ঠতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মহান আল্লাহ তাঁর এই বান্দাদের কঠিন কিয়ামতের দিনও বিশেষ মর্যাদা দান করবেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।… (তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলো) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬০)

এ ছাড়া যারা মসজিদ নির্মাণে আত্মনিয়োগ করে, মহান আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ অনুরূপভাবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৭৩৬)

শুধু তা-ই নয়, মহান আল্লাহর বান্দারা প্রতিদিন যতবার তাদের মহান রবের ইবাদত করার জন্য মসজিদে যায়, মহান আল্লাহ প্রতিবারই তাদের জন্য জান্নাতে মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। মহান আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের এভাবেই সম্মান দান করে থাকেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির ব্যবস্থা করে রাখেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬২)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (অজু করে) তারপর কোনো ফরজ নামাজ আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহর কোনো ঘরে (মসজিদে) যায়, তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে পাপ করে পড়ে এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪০৭)

আমাদের সবার উচিত আল্লাহর ঘর মসজিদকে ভালোবাসা। সাধ্যমতো মসজিদের খিদমত করা। নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়া। সম্ভব হলে আগে আগে মসজিদে গিয়ে কিছুক্ষণ কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল ইবাদত ইত্যাদি করা। এতে মহান আল্লাহ ভীষণ খুশি হন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদে নামাজ ও জিকিরে রত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার প্রতি এতটা আনন্দিত হন, প্রবাসী ব্যক্তি তার পরিবারে ফিরে এলে তারা তাকে পেয়ে যেরূপ আনন্দিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৮০০)

মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। এটি এমন এক ভালোবাসা, যা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে, হৃদয়কে আলোকিত করে এবং জীবনে এনে দেয় প্রশান্তি ও বরকত।

তাই আমাদের উচিত শুধু নামাজ পড়ার জন্য নয়, বরং হৃদয়ের টানে, ভালোবাসার আকর্ষণে মসজিদের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। যে হৃদয় মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সে হৃদয় কখনো পথভ্রষ্ট হয় না। আসুন, আমরা সবাই মসজিদমুখী হই, মসজিদকে ভালোবাসি এবং সেই সৌভাগ্যবানদের দলে শামিল হওয়ার চেষ্টা করি, যারা কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় লাভ করবে। আমিন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।