BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:১৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যান্ত্রিক ত্রুটিতে কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং


সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিলেটের কুমারগাঁওয়ের ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে তীব্র গরমের মধ্যে পুরো সিলেট অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত দুই-তিন দিন ধরে দিনে-রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টাতেই বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, সিলেটে এমনিতেই বিদ্যুতের সংকট থাকে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি অসহনীয় রূপ নিয়েছে। এখন টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না এবং সন্ধ্যার পর এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

নগরের জিন্দাবাজার এলাকার দর্জি ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামতো কাপড় ডেলিভারি দিতে পারছি না। সারাদিনে একটা প্যান্টও সেলাই করা যায় না। এ কারণে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। অথচ সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে।’

টিলাগড় এলাকার গৃহিণী সালেহা আক্তার জানান, রাতের বেলা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বাচ্চাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং স্কুলের হোমওয়ার্ক শেষ করতে না পারায় সামনে পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে গ্রাহকদের দিনে গড়ে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, গত তিন-চার দিন ধরে কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এবং পুরো অঞ্চলে মারাত্মক লো-ভোল্টেজের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আর এই ভোল্টেজ ঠিক রাখতেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভালভে সমস্যা হয়েছে বলে জেনেছি। বিদেশ থেকে নতুন যন্ত্রাংশ দেশে পৌঁছানোর পর তা মেরামতের কাজ শুরু হবে। তবে এটি পুরোপুরি ঠিক হতে কতদিন সময় লাগবে তা এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।’

রোববার সন্ধ্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে প্রায় ১৯০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকা বাকি প্রায় ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল থাকলে সিলেটে এমন তীব্র লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি হতো না বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।