BD SYLHET NEWS
সিলেটশুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:২৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জেগে ওঠো, হেলিম


ফেব্রুয়ারি ২, ২০২২ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাহেদ আহমদ:: (আমার বড় ভাই মস্তফা কামালের কাছ থেকে খবর পেলাম আমার স্কুলের সহপাঠি এবং একসময়ের সাড়া জাগানো (সত্যিকার অর্থে সে সাড়া জাগিয়েছিল। নীচের লেখা থেকে কিছুটা ধারনা পাবেন পাঠক), দুর্দান্ত ছাত্রনেতা হেলিমুল হক অত্যন্ত অপরিণত বয়সে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সিরিয়াস কন্ডিশনে আছ । অনেকদিন আগে হেলিমকে নিয়ে একটা লেখা শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। লেখাটি তাড়াহুড়ো করে শেষ করলাম যাতে যারা হেলিমের নাম শুনেননি, তাঁরা কিছুটা ধারণা করতে পাবেন এই অতুলনীয় যুবক সম্পর্কে।)

এক-

এটি কোন আষাঢ়ে গল্প নয়।

আশির দশকের শেষের কথা। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। দেশজুড়ে হরতাল-মিছিল-মিটিং চলছে । ছাত্রসমাজ আর উন্মত্ত জনতা সারা দেশে স্বৈরাচার বিরোধী আওয়াজ তুলেছে।

রাস্তায় আমরা ও গলা ছেড়ে স্লোগান দিচ্ছি, এক দফা এক দাবি, এরশাদ তুই কবে যাবি; জ্বালো জ্বালো, আগুণ জ্বালো।

আমরা তখন কেবল মাত্র হাই স্কুলে পড়ছি। হাতের আঙুলে গুনে ফেলার মত বয়স কিন্তু শিরাতে তুমুল উত্তেজনা

হরতালের দিনগুলিতে সিলেটের বিয়ানী বাজার উপজেলার কুশিয়ারা তীরে অবস্থিত কুড়ার বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রোদে-মেঘে স্নাত হয়ে কয়েক মাইল পায়ে হেঁটে মিছিল নিয়ে আমরা বিয়ানী বাজার যেতাম। হরতাল আমাদের কাছে উৎসবের মত হয়ে ওটেছিল।

এসবের মূল নেতৃত্বে ছিল আমাদের সহপাঠি ও স্কুল ক্যাপ্টেন হেলিম। ভাল নাম হেলিমুল হক। লিকলিকে লম্বা পাতলা গড়নের তেজস্বী এক তরুণ। বক্তৃতাতে যেন আগুণ ঝরে। হাইস্কুল পড়ুয়া তুখোড় সেই তরুণের মুখে কালমার্ক্স-লেনিন- মাও সেতুঙ। তার আগুণ ঝরানো বক্তৃতা শুনতে যুবক-বুড়োরা ও ভিড় জমাতো আমাদের মিটিঙে। কার ছেলে? অনেকে জিজ্ঞেস করতেন।

এই টুকুন বয়সে গল্পে পড়া বাহাদুর -নওজোয়ান যেন আমার সেই সহপাঠী। বক্তৃতা-আবৃত্তি-আলাপচারিতায় আমরা কেউ তার সমকক্ষ ছিলাম না। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার ভরাট কণ্ঠে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ শুনে মনে হত তরুণ নজরুল স্বয়ং আমাদের সামনে কবিতা পড়ছেন।

কখনো ঈর্ষা হত তার জনপ্রিয়তা দেখে। আবার গর্ব হত এই ভেবে, তার আর আমার বাড়ি একই গ্রামে।

প্রচণ্ড পড়ুয়া ছিল হেলিম। বাড়ির পূব দিকের দুচালা টিনের দুই দ্বিতীয় কক্ষে থাকত হেলিম। দেয়ালে টাঙানো কাঠ-গ্লাসের ফ্রেমে পুরানো পত্রিকার সাদাকালো ছবিসমেত কাটিং, শিরোনাম ‘মহাপ্রয়াণে চেয়ারম্যান মাও’। পাশাপাশি দেয়ালে ছিল ফ্রেমে হেলিমের বাবার সাদা কালো ছবি। মাও সেতুঙকে ভালবাসতেন হেলিমের বাবা। মাও এর তিরোধানের খবর (১৯৭৬) পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তিনি সেই কাটিং সযত্নে রেখে দিয়েছেন।

হেলিমের ঘর ঠাসা থাকত হরেক রকম রাজনীতির বইয়ে। বেড়াতে গেলে দেখতাম, হেলিমের খাঠ (চৌকি) এর উপর ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন বই। বাঙলা ভাষায় রাজনীতি বিষয়ক অনেক ক্লাসিক সে তখনি পড়ে ফেলেছে।

হাই স্কুল পড়ুয়া কিশোর হেলিমের হাতে দেখেছি কার্ল মার্ক্স এর ‘দ্যস ক্যাপিটাল’ (পুঁজি) এর বাঙলা সংস্করণ (সোভিয়েত থেকে প্রকাশিত)। ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ ( আবুল মনসুর আহমদ), ‘আমি সুভাষ বলছি’ ‘সমাজতন্ত্র দেশে দেশে’ এসব।

নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ। পত্রিকার পাতা ওলটালে চোখে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে এবং পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট দেশ সমূহে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধসে পড়ার খবর। আমাদের দেশের বাম রাজনীতিকেরা তখন এক ধরনের ডিনায়েল এর মধ্যে। এর ছাপ হেলিমের মধ্যে ও দেখতে পাই।
আমরা তাকে ক্ষ্যাপাতে চাইতাম এই বলে ‘সমাজতন্ত্রের দিন শেষ’। হেলিম আমাদের বুঝাত, সমাজতন্ত্র শেষ হবার নয়, মিখাইল গর্বাচভ এটি নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছেন। মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্নে তখনো বিভোর কিশোর হেলিম তখন হারিকেনের আলোতে পড়ছিল, মিখাইল গর্বাচেভ এর ‘প্যারেস্রাইকা এবং সাম্প্রতিক ভাবনা’।

হাইস্কুল পাশ করে আমি ঢাকা চলে যাই। ছুটিতে বাড়ি আসলে হেলিমের খবর নিতাম। বিয়ানী বাজার কলেজে (এখন সরকারি) সে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কলেজে জাসদ ছাত্রলীগ (রব) এর রাজনীতি করছে। কদাচিৎ দেখা হলে কুশলাদি বিনিময় মত।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষে আমি উচ্চ শিক্ষার জন্য ভারত চলে যাই (১৯৯৩-১৯৯৮) । হেলিমের প্রতি আমার আগ্রহে ভাঁটা পড়েনি। বছরে এক-দুই বার দেশে আসতাম। হেলিম ততদিনে কলেজে ছাত্র নেতা হিসেবে সুপরিচিত। বেশ মজা পেলাম শুনে এক সময়ের তীব্র শেখ মুজিব বিরোধী হেলিম ততদিনে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’ আর ‘জননেত্রী’ শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছে। (আওয়ামীলীগ, বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে হেলিমের সাথে স্কুলে আমাদের বহু বাদানুবাদ হয়েছে। স্বীকার করতে আপত্তি নেই তর্কে ওর সাথে পেরে ওঠা সহজ ছিল না। )

ছাত্রলীগে যোগ দেয়া হেলিমের জন্য ছিল খুব স্মার্ট একটা ডিসিশন। বিয়ানী বাজার কলেজে ছাত্রলীগের বাইরে থেকে ভিপি নির্বাচিত হওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। আর ভিপি হওয়ার জন্য হেলিম এক বছর লস ও করেছে। রেকর্ড নাম্বার ভোটে ভিপি নির্বাচিত হয়।

এ সময় বা কিছুকাল পড়ে হেলিমের আরেক মেধার পরিচয় মেলে। বিয়ানী বাজারের ছাত্রনেতা আব্দুল বারি আর হেলিমুল হক মিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উপর একটি অনবদ্য গ্রন্থ রচনা করেন। যতদূর জানি, দুজনে সমকালীন রাজনীতি ও ইতিহাসের অনেক গ্রন্থ অধ্যয়ন করে বইটি লিখেছিলেন।

এসময় কিছুকাল হেলিম গান শেখার ও চেষ্টা করে। এ নিয়ে আমি আর আব্বাছ ওকে টিজ করেছি। হেলিমের কন্ঠের বীন্দ্র সংগীত শুনতে মজাই লাগছিল –

“মনে রবে কিনা রবে আমারে
সে আমার মনে নাই মনে নাই
ক্ষণে ক্ষণে আসি তব দুয়ারে
অকারণে গান গাই । …”

সব কিছু হেলিমের প্লান মাফিক এগুচ্ছিল।

আমরা জানতাম হেলিমের মূল লক্ষ ছিল ব্যারিস্টার হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা। আইনের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক বহু পুরানো। পাক ভারত উপমহাদেশের (এবং বাইরে) বিখ্যাত রাজনীতিকদের বেশিরভাগ ছিলেন আইনের মেধাবী ছাত্র এবং দাপুটে আইনজীবী। চিত্তরঞ্জন দাস-গান্ধী-নেহেরু-সোহরাওয়ার্দি-জিন্নাহ প্রত্যেকে ছিলেন ব্যারিস্টার উপাধিপ্রাপ্ত। শেরেবাংলা, বঙ্গবন্ধু ও ছিলেন আইনের ছাত্র।

রাজনীতিতে প্রবল আগ্রহী, সুবক্তা, তার্কিক হেলিমের জন্য আইন ছিল সব চাইতে যুতসই বিষয়।

বিএ পাশ করে হেলিম সপরিবারে ঢাকা চলে যায়। ব্যারিস্টার রাবেয়া ভুঁইয়ার ভুঁইয়া একাডেমীতে ইংল্যান্ডের এল এল বি অনার্সে সে ভর্তি হয়। সেটা ছিল ১৯৯৫-৯৬-৯৭?

ঢাকাতে দু একবার হেলিমদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছি। সে সময় ওদের বাসায় ভুঁইয়া একাডেমীর আইনের অনেক ছাত্র আসা যাওয়া করত। হেলিম ছাত্র হিসেবে খুব পপুলার ছিল। অনেক ক্লাসমেট হেলিমের কাছে আসত হেল্প চাইতে। হেলিমের ব্যস্ততা দেখে ভাল লাগত।

২০০০ সালে আমি আমেরিকা চলে আসি। কয়েক বছর পরে হেলিম আইনে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে ইংল্যান্ড চলে যায় । শুনতে পাই ওখানে ও হেলিম ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট হিসেবে টিচারদের নজর কেড়েছে।

ধরে নিয়েছি, কয়েক বছরের মধ্যে হেলিম ব্যরিস্টার-এট-ল হচ্ছে। ওকি ইংল্যান্ড থাকবে নাকি দেশে গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহন করবে? মাঝে মাঝে এসব প্রশ্ন মনে আসত।

বেশ কয়েক বছর হেলিমের কোন খবর পাইনি। বিভিন্ন কারণে নিজে ও যোগাযোগ বিছিন্ন থাকতেই পছন্দ করতাম।

২০০৮ সাল পুরোপুরি চমকে যাই শুনে হেলিম দেশে চলে গেছে। ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন হেলিমকে ইংল্যান্ড ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। হেলিম আইনের পড়াশুনা শেষ করতে পারেনি। ব্যারিস্টার হতে পারেনি।

দুইঃ

চৌদ্দ বছর পর ২০১৪ সালে আমি দেশে গিয়েছিলাম। হেলিমের সাথে দেখা করতে গেলাম। এখন ও দেখতে দশাসই। তবে চেহারা আগের চেয়ে কিছুটা গোলগাল দেখাচ্ছে। মাথার চুল কমে যাওয়াতে কপাল আরেক্টু বিস্তৃত হয়েছে।

ছোট খাট কথা বার্তা হল। সৌজন্যতাবোধ আগের মতই আছে। ধীর স্থির চিত্তে কথা বলার অভ্যাস ও রয়ে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে বুঝতে পারলাম, দিস ইজ নট দ্য সেইম হেলিম দ্যাট আই নো।

হেলিম বেশ কিছুটা ডিল্যুশনাল। যেমন- সে এখন ও মনে করে (শুনেছি এর ব্যাতয় ঘটেনি আমার চলে আসার পরে ও ) ব্রিটিশ সরকার তাঁকে অন্যায় ভাবে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে। সে ইউরোপিয়ান হিউম্যান রাইটস আদালতে মামলা করেছে। শীঘ্রই রিপ্লাই আসলে সে আবার ইংল্যান্ডে যাবে, বার-এট-ল কমপ্লিট করবে।

আমাকে আর ও জানাল, জাতিসংঘে সে মিটিং এ গিয়েছে, আমেরিকাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ও বৈঠক করেছে।

(এখানে বলে রাখি, কেউ যেন ভেবে না বসেন, হেলিম এসব কথা বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। মোটেও তা নয়। ডিলিউশনাল রোগে যারা ভোগে তাঁরা বাস্তব আর কল্পনার ফারাক খেয়াল রাখতে অক্ষম। তাঁরা মনেপ্রাণে অবাস্তবকে বাস্তব মনে করে। এর মানে এই নয়, তাঁরা সকলে ভায়োলেন্ট উন্মাদ। তাঁদের বেশিরভাগ আচরণ স্বাভাবিক। কোন অসুখ বোঝার উপায় নেই। )

আমেরিকা এসে ও হেলিমের কথা বুলতে পারিনি। দেশে আমার এক ডাক্তার বন্ধুর সাথে কথা বললাম। এনি হোপস? আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম। কেবল মেডিসিনে কাজ হবে না, লং টার্ম সাইকো থেরাপি লাগবে। একই কথা এখানকার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির বয়স্ক এক প্রফেসর ও বললেন।

সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হল, ডিলিউশনাল ডিসর্ডারের রোগীকে চিকিৎসায় রাজী করানো। তাঁদের ট্রিটমেন্ট দরকার, এটি তাঁরা মানতে চায় না। একধরনের ডিনাইলের মধ্যে থাকে। আর হেলিমের মত তীক্ষ্ণ মেধার মানুষকে এসব ব্যাপারে কনভিন্স করা সবার কাজ নয়।

আমেরিকা থেকে দু’ একবার ফোনে হেলিমের সাথে কথা বললাম।

বললাম, তোমার মত মেধাবী মানুষ ইন্টারনেটের যুগে বাড়িতে থেকে ও অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পারে। সাংবাদিকতা, বই লেখালেখি, টিউশনি, অধ্যাপনা। ইংল্যান্ড থেকে ল’ বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি আছে তোমার। দেশে এখন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির অভাব নেই। জয়েন করছ না কেন একটাতে? হেলিম তেমন কোন আগ্রহ দেখাল না।

আরেকবার বললাম একটা কিছু লেখার জন্য। যা মনে আসে, বাঙলা বা ইংরেজী, প্লিজ একটু লেখ, অনুনয় করে বললাম। ভাবলাম, ফ্রি রাইটিং ও এক ধরনের ট্রিটমেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। বলল, চেষ্টা করবে কিন্তু ইউরোপ এর হিউম্যান রাইটস কোর্ট থেকে কিছুটা জরুরী কাগজপত্র চেয়েছে। সেটা নিয়ে ব্যস্ত। বুঝলাম, ডিলুইশন আগের মত।

তিনঃ

আমেরিকায় কেনেডিদের ফ্যামিলি ট্রাজেডির কথা অনেকেই জানেন।অনেকের মত কেনেডিদের নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ নেই। কিছুদিন আগে “কেনেডি কার্স “ নামে একটা বই পড়লাম। আমি কার্সে বিশ্বাস করি না। কিন্তু কেনেডিদের বাস্তব জীবনের মর্মান্তিক ঘটনা বলি সিনেমার কাহিনীর চেয়ে বেশী সাস্পেন্সফুল।

(জন এফ কেনেডির বড় ভাই, জন এফ কেনেডি নিজে, ছোট ভাই রবার্ট কেনেডি, বড় এক বোন, কেনেডির এক মাত্র ছেলে জে এফ কে জুনিয়র সবাই কোন কোন এক্সিডেন্ট বা এসাসিনের নির্মম বলি হয়েছেন। রবার্ট কেনেডির এক ছেলে ও স্কিং দুর্ঘটনায় মারা যান )

হেলিমের পুরো ফ্যামিলি ট্র্যাজিক ঘটনায় আক্রান্ত। অঘটন একটার পর আরেকটা।

হেলিমের বাবাকে আমি দেখিনি। খুব ছোট ছিলাম। তবে অনেকের মুখে তার গল্প শুনেছি। চিন্তাচেতনায় ছিলেন বিপ্লবী। কমিউনিজমে বিশ্বাস করতেন। জমি নিয়ে বিরোধে খোলা মাঠে অসম এক যুদ্ধে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন হন।

সন্তানদের রাখা নামের ধরনে কিছুটা পরিচয় মেলে হেলিমের বাবা সমছুল হকের বিপ্লবী মানসপটের। হেলিমের এক ছোট ভাই লেলিনুল হক, আরেকজন হোচিমিনুল হক। হেলিমের একমাত্র বড় বোন (জেসমিন আপা) ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতি এবং রূপসী। ছোটবেলায় আমাকে ও হেলিমের মত স্নেহ করতেন। হেলিমের স্নেহময়ী মায়ের কথা অনেকেই জানেন। সারা জীবন সংগ্রাম করে যাওয়া এই সাহসী মহিলাকে আমার মা ও খুব পছন্দ করতেন।

হেলিমের বড় ভাই শামীম কয়েক বছর আগে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। এর আগে অপরিণত বয়সে হেলিমের বোন মারা গেলেন। এঁদের কোন ভাইবোনের বয়স পঞ্চাশ ও হয়নি।

হেলিমের মামা সর্বজন প্রিয়, প্রখর বুদ্ধির মানুষ, ম্যাথিউরা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান মামার সাথে অনেকবার হেলিমদের নিয়ে কথা বলেছি। তাঁর একটা হাইপথিসিস আমার কাছে শেয়ার করেছিলেন। বলেছিলেন, আমার ভাগ্না ভাগ্নিদের জীবন শুরু হয় রূপকথার মত। মেধা, তীক্ষ্ণবুদ্ধি আর শারীরিক গঠনে এরা অতুলনীয়, যে কারো নজর কাড়তে বাধ্য। কিন্তু মিডল এজে পৌঁছাবার আগেই এঁদের কিছু একটা এলোমেলো হয়ে যায়। সম্ভবত জেনেটিক। সদা হাস্যময় লুতফুর মামা বিমর্ষ বদনে কথাগুলি বললেন।

আমি মনে প্রাণে আশা করছি, হেলিম সুস্থ হয়ে উঠুক। জেগে ওঠো, হেলিম, প্লিজ!

সহপাঠীদের সাথে হেলিমুল হক (উপরে বাম থেকে দ্বিতীয়)

লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।