মাহমুদ হোসেন খান:: নড়াইল জেলার বিছালী গ্রামে আগামী ২৫ জুলাই ২০২৫ আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক নির্মম ও পাশবিক প্রতিযোগিতা—‘ষাঁড়ের লড়াই’। এই প্রতিযোগিতায় দু’টি গরুকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে, লড়াইয়ে বাধ্য করা হবে। লড়াই চলবে ষাঁড়ের রক্ত ঝরা পর্যন্ত! যতক্ষণ না কোনো একটি ষাঁড় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আয়োজকেরা একে গ্রামীণ ঐতিহ্য বলে দাবি করলেও, এটিকে ‘খেলা’ বলা যায় না কোনো ভাবেই—এটা একটি নির্মম সহিংসতা, নিরীহ প্রাণীকে বিনা অপরাধে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া।
সবচেয়ে ভয়াবহ বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে এই সহিংসতা বন্ধ করার মতো কেউ নেই। সরকার নিশ্চুপ, পুলিশ প্রশাসন নিশ্চুপ, মানবাধিকার সংগঠন গুলোও নিশ্চুপ। সাধারণ মানুষ মুখে কিছু বললেও, প্রকাশ্যে প্রতিবাদের কেউ সাহস পাচ্ছে না। কারণ, এই প্রতিযোগিতাকে পাহারা দিচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে যাতে কোনো প্রতিবাদ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করছে তারা। যারা প্রতিবাদ করবে, বা এ নিয়ে যারা কথা বলবে , তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতে পারে।
এখন এমন এক বাংলাদেশ বাস্তব হয়ে উঠেছে, যেখানে পশুর রক্তে ভেসে যাচ্ছে মাঠ, অথচ সমাজের সাধারণ মানুষের বিবেক এক বিন্দুও নড়ে না। পত্রিকা, টেলিভিশন, সামাজিক মাধ্যম—সবখানে নীরবতা। কেউ কিছু বলছে না, বলতেও পারছে না। যেন গোটা দেশকে একটি অদৃশ্য হাত চেপে ধরেছে—যেখানে প্রতিবাদ মানেই বিপদ, সত্য মানেই শাস্তি।
বর্তমানে বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠন গুলো আজ ভয় আর সরকারের কাছে বন্দী। যারা এক সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতো, তারাও আজ নিজেরা টিকে থাকার লড়াইয়ে নীরব! বিছালী মাঠে যা ঘটছে, তা শুধু পশু নির্যাতন নয়—এটা একটি ভয়ংকর সরকারের নীরবতার চিত্র, যেখানে প্রশাসন অপরাধের পাহারাদার, আর জনগণ ভয়ের ঘরে বন্দী।
এটা আর কোনো গ্রামীণ খেলাধুলার খবর নয় এটা এক জাতির নৈতিক পতনের প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রাণীর কান্না, রক্ত, আর ব্যথা এক ভয়াবহ উৎসবে রূপ নিয়েছে—আর কেউ নেই প্রতিবাদ করার মতো। আজ এই ষাঁড়ের লড়াইয়ে শুধু পশুর রক্ত ঝরছে না, ঝরছে আমার বিবেকেরও শেষ রক্তবিন্দু।
