মাহমুদ হোসেন খান::- সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণীর অধিকার ও তাদের প্রতি সদয় আচরণের বিষয়টি নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণীর প্রতি দয়া করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি ইবাদত। আর অন্যায় ভাবে কষ্ট দেওয়া মানবতা ও ধর্মীয় নীতির পরিপন্থী।
পশুপালন ও প্রাণী কল্যাণ আইনের আওতায়, কোনো প্রাণীর প্রতি নির্মম আচরণ শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন সমাজ কর্মী বলেন, “ছোট ছোট দয়া যেমন খাবার দেওয়া বা আহত প্রাণীর যত্ন নেওয়া শুধু তাদের জীবন বাঁচায় না, আমাদের সমাজকেও আরও মানবিক করে তোলে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, শিশুদের জীবনের শুরু থেকেই প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি শেখানো প্রয়োজন। কারণ এটি কেবল প্রাণীর কল্যাণই নিশ্চিত করে না, বরং মানবিক মনোবল ও সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তোলে।
প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করা তাই শুধুই আইনগত বা ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, এটি মানবতার প্রতিফলন।
‘হাদিসে প্রাণীর প্রতি দয়ার শিক্ষা’
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“যে ব্যক্তি কোনো চড়ুইকে অযথা হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন সেই চড়ুই আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে, ‘হে আল্লাহ! অমুক ব্যক্তি আমাকে বিনা কারণে হত্যা করেছে।’”
— (নাসাঈ, হাদিস: ৪৪৪৭)
আরও একটি হাদিসে বলা হয়েছে—
“যে কেউ কোনো প্রাণীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, আল্লাহ তাকে বিচার করবেন।”
— (নাসাঈ)
নবী করিম (সা.) প্রাণীর অঙ্গ কর্তন, শরীরের নরম স্থানে দাগ দেওয়া বা অপ্রয়োজনে ভার বহনে বাধ্য করা নিষিদ্ধ করেছেন। কোনো প্রাণীকে কষ্ট পেতে দেখলে তিনি বলতেন, “প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।”
— (আবু দাউদ)
মানসিক কষ্ট থেকেও বিরত থাকা
নবী করিম (সা.) শুধু শারীরিক নয়, প্রাণীর মানসিক কষ্টকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। এক সাহাবি বর্ণনা করেন, “আমরা এক সফরে এক পাখির ছানা ধরেছিলাম। মা পাখিটি কষ্টে ডানা ঝাপটাচ্ছিল। নবী করিম (সা.) এসে বললেন, ‘কে এই পাখিটিকে কষ্ট দিয়েছে? তার ছানাগুলো ফিরিয়ে দাও।’”
— (আবু দাউদ)
প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান
জাহেলি যুগে প্রাণীদের ওপর অত্যাচার প্রচলিত ছিল। ইসলাম এসব নিষ্ঠুরতা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। নবী করিম (সা.) বলেন—
“যে জীবন্ত প্রাণীর দেহ থেকে কিছু কেটে নেওয়া হয়, তা মৃত প্রাণীর মতোই অপবিত্র।”
— (তিরমিজি)
জবাইয়ের সময় সহানুভূতির নির্দেশ
তিনি বলেছেন—
“আল্লাহ সব কাজে উৎকর্ষ নির্ধারণ করেছেন। যখন জবাই করবে, সুন্দরভাবে করো; ছুরি ধারালো করো এবং প্রাণীকে স্বস্তি দাও।”
— (মুসলিম)
মানুষের দায়িত্ব:-
মানুষকে আল্লাহ প্রাণীদের অভিভাবক করেছেন। তাদের খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা মানুষের দায়িত্ব। কোনো প্রাণীকে অনাহারে রাখা, নির্যাতন করা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমে বাধ্য করা আল্লাহর কাছে কঠিন অপরাধ। কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী, প্রাণীদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করা প্রতিটি মুমিনের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
