মাহমুদ হোসেন খান:: প্রাণীর প্রতি এত নিষ্ঠুরতার ঘটনা বাংলাদেশে নিয়মিত ঘটে এবং মানুষ এটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কুকুর হত্যার দৃশ্য ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে আমাদের দেশে। বিভিন্ন সামাজিক -সাংস্কৃতিক কারণে এবং ‘কুকুরে কামড়ালেই জলাতংক হবে’ এমন ধারণা থেকে কুকুরের প্রতি লোকে সহিংস আচরণ করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের বহু সহিংস আচরণের সূচনা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা থেকেই হয়।
দেশের অনেক জায়গায় দেখা যায়, কুকুর পিটিয়ে মারা হচ্ছে। পরে সেটিকে দড়ি দিয়ে টেনে ফেলে দেয়ার দৃশ্যও ধরা পড়ে। আর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখে আমি আসলেই মর্মাহত। প্রাণীর প্রতি এটি নিষ্ঠুর আচরণ। প্রাণীর প্রতি এ ধরনের আচরণ করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ আমি মনে করি। নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। সারা বিশ্বে প্রতিটি প্রাণীর নিরাপত্তা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে প্রাণীদের নিরাপত্তা নেই। এটি নিয়ে কেউ কাজ করতে চায়না। প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কথা বললে সমাজের মানুষ হাসাহাসি করতে দেখা থাকে। আবার কেউ প্রকাশ্য কথা বললে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এর জন্য আমাদের দেশে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না। কারণ তার ব্যক্তির নিরাপত্তা নেই।
বাংলাদেশে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠূর আচরণের জন্য কারো বিচার বা শাস্তি হয় না। আমি মনে করি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধের ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা তৈরি হবে, তাদের প্রতি সদয় আচরণ করতে মানুষকে উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এ সহযোগিতা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার কোন উদ্যোগ দেখা যায় না।
