BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৩১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৯৪৬ থেকে ২০২৬ সালের ট্রাম্প পর্যন্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেমন ছিল ক্ষমতাসীন দলের ফলাফল


নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়েই এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়। ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এই নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে পরবর্তী দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করা হয়।

যদিও ব্যালটে প্রেসিডেন্টের নাম থাকবে না, তবু এই নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে তার শাসনামলের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয়। আর এ ধরনের নির্বাচনে প্রায় সব সময়ই প্রেসিডেন্টের দলকে আসন হারানোর মূল্য দিতে হয়।

১৯৪৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৮টিতেই ভোটাররা হোয়াইট হাউসের ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের আসন কেড়ে নিয়েছেন। এসব নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল গড়ে ২৬টি আসন হারিয়েছে। শুধু ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের রিপাবলিকান পার্টি এই ধারার ব্যতিক্রম ঘটাতে পেরেছিল।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষকরা এই প্রবণতাকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পেনাল্টি’ বা ‘মিডটার্ম পেনাল্টি’ বলে অভিহিত করেন। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন হারায়। এর একটি কারণ হলো, দলটি তখন ক্ষমতায় থাকে, আর ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনকে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন।

প্রতিনিধি পরিষদ: ২০টি নির্বাচনের মধ্যে ১৮টিতেই আসন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দল

নিচের চিত্রে ১৯৪৬ সাল থেকে জো বাইডেনের সময় পর্যন্ত প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে কতটি আসন পেয়েছে বা হারিয়েছে, তা দেখানো হয়েছে। এই তালিকায় হ্যারি এস ট্রুম্যান থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রেসিডেন্টের আমলের নির্বাচনী ফলাফল রয়েছে।

১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্টরা। এসব নির্বাচনে তাদের দল গড়ে প্রায় ২৯টি প্রতিনিধি পরিষদের আসন হারিয়েছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের আমলে তাদের দল গড়ে প্রায় ২৩টি আসন হারিয়েছে।

সবচেয়ে বড় আসন হারানোর ঘটনা ঘটে ২০১০ সালে। এর দুই বছর আগে বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের ৬৪টি আসন হারায়। এর ফলে রিপাবলিকানরা কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এর আগে ১৯৪৬ সালে হ্যারি ট্রুম্যানের আমলে ডেমোক্র্যাটরা ৫৬টি আসন হারিয়েছিল। আর ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটনের আমলে দলটি ৫৪টি আসন হারায়। উভয় ক্ষেত্রেই ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।

রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলো ঘটেছিল ডুইট ডি আইজেনহাওয়ার ও জেরাল্ড ফোর্ডের আমলে। ১৯৫৮ সালে আইজেনহাওয়ারের দল ৫০টি আসন হারায়। আর ১৯৭৪ সালে ফোর্ডের দল হারায় ৪৮টি আসন।

২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রিপাবলিকানরা বড় ধাক্কা খায়। ওই নির্বাচনে দলটি ৪২টি আসন হারানোর পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও হারায়।

বড় ধরনের আসন হারানোর ফলে প্রায়ই প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। ১৯৪৬ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে সাতটিতে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে চলে যায়। এসব বছর হলো ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৯৪, ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২।

সিনেট: ২০টি নির্বাচনের মধ্যে ১৩টিতে আসন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দল

১৯৪৬ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৩টিতে প্রেসিডেন্টের দল সিনেটে আসন হারিয়েছে। তবে মাত্র ছয়বার দলটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এই বছরগুলো হলো ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৮৬, ১৯৯৪, ২০০৬ ও ২০১৪।

প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে সিনেটের নির্বাচনী ব্যবস্থায় পার্থক্য রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনে প্রতি দুই বছর পর নির্বাচন হয়। কিন্তু সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে প্রতি নির্বাচনে মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। কারণ, সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর এবং তাদের নির্বাচনের সময় আলাদা করে নির্ধারিত।

এ কারণে কোন কোন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, তা জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই সময়ের মধ্যে সিনেটে সবচেয়ে বড় আসন হারানোর ঘটনা ঘটে আইজেনহাওয়ারের আমলে। ১৯৫৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টি সিনেটের ১৩টি আসন হারায়।

১৯৪৬ সালে ট্রুম্যানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ১২টি আসন হারিয়েছিল। আর ২০১৪ সালে ওবামার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সিনেটের নয়টি আসন হারায়। এর ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে চলে যায়।

কখনো কখনো কংগ্রেসের দুই কক্ষের নির্বাচনী ফলাফল একে অপরের বিপরীত হয়েছে।

১৯৮২ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের ২৬টি আসন হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে সিনেটে তাদের আসন একটি বেড়েছিল।

একইভাবে ২০২২ সালে বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়।

এসব ভিন্নধর্মী ফলাফল থেকে বোঝা যায়, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ কংগ্রেসের দুই কক্ষে সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। কোনো দলের জন্য সিনেটের নির্বাচনি আসনবিন্যাস অনুকূলে থাকলে তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। অথচ একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে পরাজিত হতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অর্থ কী?

আসন হারানো এবং কোনো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো এক বিষয় নয়। ১৯৬৬ সালে লিন্ডন জনসনের ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের ৪৭টি আসন হারিয়েছিল। তবে এরপরও দলটি সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে, এর ২০ বছর পর ১৯৮৬ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র চারটি আসন হারিয়েছিল। কিন্তু সিনেটে আটটি আসন হারানোর পর দলটি কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ হারায়।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার ওপরই আইন প্রণয়নের কর্মসূচি নির্ধারণ ও আইন পাসের বিষয়টি নির্ভর করে।

কোনো বিল প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বা ভেটোর জন্য পাঠানোর আগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই পাস হতে হয়। তাই যেকোনো একটি কক্ষে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে তারা প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা আটকে দিতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে কোনো দল প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারে এবং তাকে অভিশংসন করতে পারে।

অন্যদিকে, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে ফেডারেল বিচারকরাও রয়েছেন। এসব বিচারক আজীবন দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৬ সাল: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল

২০২৬ সালে এসে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের হটিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসনের গণ্ডি পেরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত ২১৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রথাগতভাবে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের জয় পেয়ে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মিশিগান, টেক্সাস, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও এবং মেইনের মতো ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে তা সময়ই বলে দিবে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।