BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:৫৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সামাজিক মাধ্যমে ২১ লাখ অনুসারী, নির্বাচনে মাত্র ৩৩ ভোট!


অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী ২১ লাখের বেশি। অথচ নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৩৩টি। এর মধ্যে ১১টি ভোট এসেছে নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। ভারতের রাজস্থানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ওমপ্রকাশ বিষ্ণোই নামের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের যোধপুর জেলার ওসিয়ান তহসিলের ইন্দন কি ধানি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সরপঞ্চ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। নিজেকে জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওমপ্রকাশ ইউটিউবার হিসেবেও পরিচিত। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব মিলিয়ে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ।

এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ১৪ লাখ, ফেসবুকে ২ লাখ ৩২ হাজার এবং ইউটিউবে প্রায় ৫ লাখ। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়েও নির্বাচনে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি তিনি। প্রায় ১ হাজার ৬০০ ভোটারের ওই গ্রামে তার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৩৩।

নির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিক্ষক পেয়েছেন ৫২৭ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

এনডিটিভিকে ওমপ্রকাশ বলেন, গ্রামের মানুষ তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তাঁদের আশ্বাসে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু ভোট গণনার পর ফলাফল দেখে হতাশ হন।

তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসী বলেছিলেন, আপনি নির্বাচনে দাঁড়ান, আমরা আপনাকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে দেব। কিন্তু ভোটের বাক্স খোলার পর দেখলাম, আমি মাত্র ৩৩ ভোট পেয়েছি। ১০টি ভোট পড়েছে “নোটা”য়।’

নির্বাচনে ভোটারদের টাকা বা নেশাজাতীয় দ্রব্য বিতরণ করেননি বলেও দাবি করেন ওমপ্রকাশ। প্রচারের জন্য বড় গাড়িবহর ব্যবহার না করে আগের গাড়িতেই মানুষের কাছে গেছেন বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা আর সরাসরি ভোটের সমর্থনের মধ্যে পার্থক্যও স্বীকার করেছেন এই প্রার্থী। তার ভাষ্য, ‘সামাজিক মাধ্যম এক জিনিস, আর বাস্তব পরিস্থিতি অন্য রকম। আমার পাওয়া ৩৩ ভোটের মধ্যে ১১টি পরিবারের সদস্যদের। বাকিগুলো এসেছে আমার সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং ঘনিষ্ঠ— এমন মানুষের কাছ থেকে।’

নির্বাচনে তার প্রধান অগ্রাধিকার ছিল গ্রামের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসহায় প্রাণীদের যত্ন নেওয়া এবং বাসিন্দাদের কাছে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। নিজের পরিচালিত গোশালায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ গরু রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ কাজে নিজের প্রায় ৩০ বিঘা জমি দান করেছেন বলে জানান ওমপ্রকাশ।

তবে নির্বাচনে পরাজয়কে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন বলে জানান এই প্রভাবক। ভোটে হারলেও গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।