BD SYLHET NEWS
সিলেটরবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:০৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটে মামার বাসায় সিসি ক্যামেরা বসাতে গিয়ে হামলার শিকার ভাগ্নে, কমিশনারের কাছে অভিযোগ


জুলাই ৫, ২০২৬ ৫:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটে এক লন্ডন প্রবাসী মামার বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তাহের আহমদ তপু (২৭) নামের এক যুবক। শুধু হামলা ও মারধরই নয়, পরবর্তীতে এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল নম্বর থেকে তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেনিতিনি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী তাহের আহমদ তপু সিলেট কোতোয়ালী থানার মোগলটুলা এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরচৌরাই এলাকার মৃত আজর আলীর মেয়ে রুহেলা বেগম (৩৪) ও ছেলে নজরুল ইসলাম (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানাধীন মুন্সিপাড়া এলাকার ‘এ/৫৭/বি’ নম্বর বাসার মালিক লন্ডন প্রবাসী মাহমুদ আলী (৬৩), যিনি অভিযোগকারী তপুর আপন মামা। বিগত ০১/০১/২০২২ তারিখে অভিযুক্ত রুহেলা বেগম (৩৪) ও নজরুল ইসলাম (৩০) মাসিক ৮ হাজার টাকা ভাড়ায় বাসার ৫ ম তলার একটি ফ্ল্যাট দুই বছরের জন্য ভাড়া নেন। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা বাসা ছাড়েননি। সম্প্রতি বাসায় বহিরাগত ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় লন্ডনে অবস্থানরত বাড়ির মালিক তার ভাগ্নে তপুকে গেটসহ বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেন।

এরপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৮ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে তপু সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য লোক নিয়ে ওই বাসায় যান। এ সময় ভাড়াটিয়া রুহেলা বেগম ও নজরুল ইসলাম ক্যামেরা বসাতে বাধা দেন এবং মই থেকে টেকনিশিয়ানকে ফেলে দেন। তপু এর প্রতিবাদ করলে ১নং বিবাদী রুহেলা বেগম ধারালো দা নিয়ে তাকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে বিবাদীদ্বয় এবং তাদের সাথে থাকা আরও ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তপুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ১নং বিবাদী বাঁশের লাঠি দিয়ে তপুকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন এবং ২নং বিবাদী নজরুল ইসলাম তপুর শার্টের কলার ধরে মাটিতে ফেলে গলা চিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তপুকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ান।

লিখিত অভিযোগে তপু আরও জানান, ঘটনার দিন রাতে তিনি যখন সিলেট সার্কিট হাউসের সামনে অবস্থান করছিলেন, তখন ‘০১৫৭৭-৬৮৮৪৯২’ নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। ফোনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ হাত-পা কেটে হত্যা এবং লাশ বস্তাবন্দি করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ওই মোবাইল নম্বরটি ব্যবহারকারী ব্যক্তি হলেন এনামুল ইসলাম, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য (বিপি নম্বর-৯৪১৩১৬৩৪৯৪, নায়েক নং-১১২)। তিনি বর্তমানে রাঙামাটি জেলায় কর্মরত আছেন এবং অভিযুক্ত বিবাদীদ্বয়ের আপন ভাই। এই হুমকির কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত আছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তপু।

ভুক্তভোগী তাহের আহমদ তপু এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম মুঠোফোনে কল তিনি কল কেটে দেন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।