BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৪৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মালয়েশিয়ায় ২৪ বাংলাদেশি পেলেন ডুয়ামের সম্মাননা


জুন ৮, ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ইন মালয়েশিয়া ২০২৬’। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (ডুয়াম) আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে প্রবাসে শিক্ষা, গবেষণা, নেতৃত্ব, নারী ক্ষমতায়ন ও কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ২৪ বাংলাদেশিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শনিবার (৬ জুন) এসএসইউ ক্লাব আমানে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্য, মেধা ও সামাজিক অবদানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার এক অনন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, নারী নেত্রী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্বদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের ইতিবাচক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ উপলক্ষে বিশ্বের শীর্ষ ১ থেকে ২ শতাংশ সর্বাধিক উদ্ধৃত (সাইটেড) বিজ্ঞানী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদেরও বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাফল্য ও অর্জন কেবল ব্যক্তিগত গৌরবের বিষয় নয়; বরং তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ডুয়ামের সভাপতি ও ইভেন্ট অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক সুরাইয়া ইয়াসমিন নাহার-এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি বলেন, প্রবাসে অসংখ্য বাংলাদেশি নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, পেশা এবং সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের এ অর্জনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতেই ডুয়ামের এ আয়োজন।

অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য সচিব ও ডুয়ামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী আকাশ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, অ্যাওয়ার্ড নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

ডুয়ামের যুগ্ম সম্পাদক রেবেকা সুলতানা জেরিন সংগঠনের চলমান কার্যক্রম, কমিউনিটি উন্নয়ন উদ্যোগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ডুয়ামের ভূমিকা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি এ ধরনের আয়োজনকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেন।

এবারের আয়োজনে চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ২৪ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স’ বিভাগে ৯ জন শিক্ষক ও গবেষক, ‘স্টুডেন্ট এক্সিলেন্স’ বিভাগে ৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী, ‘উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট’ বিভাগে ৪ জন নারী নেত্রী এবং ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ বিভাগে ২ জন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব পুরস্কার লাভ করেন।

শিক্ষক ও গবেষক ক্যাটাগরির নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডুয়ামের সহ-সভাপতি ড. সোহেলা মুশতারী। শিক্ষার্থী ক্যাটাগরির দায়িত্বে ছিলেন ড. জাইরা জামান এবং নারী ক্ষমতায়ন ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ক্যাটাগরির দায়িত্ব পালন করেন রেবেকা সুলতানা জেরিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. শামসুল বারি মোহাম্মদ তামরিন, ড. আবিদিন আদেমি আদেওয়ালে, মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক এবং শ্রীলঙ্কা, ভারত, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ প্রায় ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চল কুয়ানতান, কেলান্তান, জোহর বাহরু, মালাক্কা, সাবাহ, সারাওয়াক ও পেনাংসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন ডুয়ামের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিকা ইসলাম অর্পা এবং আফসারা আয়েশা ইসলাম। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র‍্যাফেল ড্র, পারিবারিক অংশগ্রহণমূলক আয়োজন এবং নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজন করে ডুয়াম। দ্বিতীয়বারের এ আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ‘বাংলাদেশি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ইন মালয়েশিয়া’ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি মেধা, নেতৃত্ব ও সামাজিক অবদানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

প্রবাসে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এ উদ্যোগকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।