চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ভল্টে গ্রাহকের চার কোটি ৩৮ লাখ টাকার খোঁজ মিলছে না। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং তার সহযোগী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন শেষে ক্যাশ ভল্টের সংরক্ষিত নগদ অর্থ হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরে নথি যাচাই-বাছাই করে ভল্টে মোট চার কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পান ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জালিয়াতির কৌশল হিসেবে টাকা বহনের এক হাজার টাকার বড় বান্ডিলের ভেতর ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে রেখে ভল্ট পূর্ণ দেখানোর চেষ্টা করা হতো, যাতে বাহ্যিকভাবে কোনো সন্দেহ না হয়।
পরে অনুসন্ধান ও আসামির প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাতে জানা যায়, ভল্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া টাকা দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামের একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়, যেখানে ৫০-৬০টি গরু রয়েছে। খামারটি দেখাশোনা করতেন গ্রেপ্তার তানভীর।
ঘটনার পর অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আত্মসাৎ করা অর্থ জালিয়াতির প্রক্রিয়ায় জড়িত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের কাছ থেকে আলামত হিসেবে দুই জোড়া মোবাইল ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্যসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।
বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
