BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:১০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৫০০০, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইঙ্গিত


জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৮:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইরানে বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে একজন আঞ্চলিক পর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তা রবিবার জানিয়েছেন। যাচাইকৃত পরিসংখ্যানের বরাতে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা’ ‘নিরীহ ইরানিদের’ হত্যা করেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ২৮ ডিসেম্বর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। এতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় হত্যা করা হয় বা তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুক্রবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের নেতাদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তারা নির্ধারিত গণ-ফাঁসি স্থগিত করেছে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শনিবার বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধে টেনে নেব না, তবে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তি ছাড়া ছাড় দেব না’। বিচার বিভাগ রবিবার ইঙ্গিত দেয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে।

বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কিছু কর্মকাণ্ডকে মোহারেব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ইসলামী আইনে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত।’

মোহারেব হলো একটি ইসলামী আইনি পরিভাষা, যার অর্থ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা; ইরানি আইনে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

পলিটিকোর সঙ্গে শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’

ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর খামেনি দেশটির দীর্ঘদিনের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহিংসতা সংগঠনের অভিযোগ করেন এবং ‘কয়েক হাজার মৃত্যুর’ কথা স্বীকার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ শনিবার জানায়, নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে, এবং আরো চার হাজার ৩৮২টি ঘটনা পর্যালোচনায় রয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ২৪ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যাচাইকৃত নিহতের সংখ্যা খুব বেশি আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে না’, এবং যোগ করেন যে ‘ইসরায়েল ও বিদেশে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো’ রাস্তায় নামা লোকজনকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী নিয়মিতভাবে অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে থাকে।ইসলামি প্রজাতন্ত্রের চিরশত্রু ইসরায়েল জুন মাসে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।