নায়ক কিংবা নায়িকা বিয়ে করলেই ক্যারিয়ার থমকে যায়—এমন একটি কথা প্রচলিত রয়েছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। বহুল প্রচলিত এই কথার ভুল প্রমাণ করেছেন বহু শিল্পী। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয় অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে ও ১৭ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেমে যাননি। রাজেশ খান্না, শশী কাপুর, জীতেন্দ্র, সঞ্জীব কুমার, বিনোদ মেহ্রা ও অমিতাভ বচ্চনের মত অভিনেতাদের সাথে কাজ করে হয়ে উঠেছিলেন শীর্ষ নায়িকাদের একজন।
এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় জানান, তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘বালিকা বধু’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র অভিষেক ঘটে তার। এই সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় শ্বশুর, কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক হেমন্ত মুখার্জির পরিবারের। এরপরই প্রযোজক জয়ন্ত মুখার্জির সঙ্গে তার বিয়ের কথা পাকা হয়। সে সময় তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার ফুপু ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে ছিলেন। তিনি আমার বিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। সেই কারণেই এক মাসের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যায়।’
বিয়ের পর মুম্বাইয়ে এসে নতুন জীবন শুরু করেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। তখনও কিশোরী বয়স, খেলনা আর পুতুল নিয়েই সময় কাটত তার।
১৭ বছর বয়সেই মা হন এই অভিনেত্রী। পরবর্তীতে ১৯৭০–৮০ দশকে তিনি বলিউড ও বাংলা চলচ্চিত্রে শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠেন। তিনি প্রায় ১০০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
বলিউডে শশী কাপুরের সাথে ‘নাইনা’, বিনোদ মেহ্রার সাথে ‘আসপার, রাজেশ খান্নার বিপরীতে ‘হামসাকাল’, অমিতাভ বচ্চনের সাথে ‘বেনাম’, মনোজ কুমারের ‘রতি কাপাদা অর মাকান’সহ সেই সময়য়ের প্রথম সারির নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিনোদ মেহ্রার সাথে জুটি হয়ে টানা ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
এদিকে টালিউড সিনেমা প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিনীত সিনেমাগুলো হল ‘বালিকা বধু’, ‘পরিণীতা’ ‘অনিন্দিতা’, ‘আনন্দ আশ্রম’, ‘ওগো বধূ সুন্দরী’, ‘প্রার্থনা’, ‘শতরূপা’, ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’। সহ-অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিনীত মধ্যে অন্যতম ‘নাটের গুরু’, ‘ভালোবাসার অনেক নাম’, ‘গোলাপী এখন বিলেতে’, ‘দ্য জাপানিজ ওয়াইফ’, ‘গয়নার বাক্স’, ‘আড়ি’, ‘পিকু’।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত জীবনের অপ্রত্যাশিত শুরুর পরও নিজের প্রতিভা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে সফলতা ধরে রেখেছেন মৌসুমী চ্যাটার্জি। সূত্র: এনডিটিভি
