BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:০৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিরিয়ায় আলাউয়ি সম্প্রদায়ের মুসলিমদের বিক্ষোভ


ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫ ৬:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরিয়ার উপকূলীয় ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রবিবার হাজারো আলাউয়ি সম্প্রদায়ের মুসলিমরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। দুই দিন আগে এক মসজিদে বোমা হামলায় আটজন নিহত হওয়ার পর তারা এই প্রতিবাদ করে।

হোমসের এক আলাউয়ি এলাকায় সংঘটিত এ হামলা ছিল দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতন (ডিসেম্বর ২০২৪) পর থেকে এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সংঘটিত একাধিক সহিংস ঘটনার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। আসাদ নিজেও ছিলেন আলাউয়ি সম্প্রদায়ের সদস্য।

উপকূলীয় লাতাকিয়া শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নতুন ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে বলে এএফপির এক সংবাদদাতা জানান। জাবলে শহরেও সংঘর্ষ হয় বলে আরেকজন সংবাদদাতা জানান। মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস হোমস শহরেও সহিংসতার খবর দিয়েছে, যেখানে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

লাতাকিয়ায় বিক্ষোভরত ৪৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী নুমেইর রামাদান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন এই হত্যা? কেন এই হত্যাকাণ্ড? কেন এই অপহরণ? কেন এই এলোমেলো কর্মকাণ্ড—কোনো প্রতিবন্ধকতা, জবাবদিহি বা নজরদারি ছাড়াই?’

তিনি আরো বলেন, ‘আসাদ চলে গেছেন, আর আমরা আসাদকে সমর্থনও করি না… তবে এই হত্যাকাণ্ড কেন?’

সিরিয়া ও প্রবাসের ইসলামিক আলাউয়ি কাউন্সিলের প্রধান প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ঘাজাল ঘাজাল শনিবার জনগণকে আহ্বান জানানোর পরদিনই এই বিক্ষোভ হয়।

তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বকে দেখিয়ে দিন যে আলাউয়ি সম্প্রদায়কে অপমান বা প্রান্তিক করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গৃহযুদ্ধ চাই না, আমরা রাজনৈতিক ফেডারালিজম চাই। আমরা তোমাদের সন্ত্রাস চাই না। আমরা আমাদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে চাই।

বিক্ষোভকারীরা ঘাজালের ছবি এবং তার প্রতি সমর্থন জানানো ব্যানার বহন করেন, পাশাপাশি নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থা ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে স্লোগান দেন। প্ল্যাকার্ডে ‘সাম্প্রদায়িক উসকানির’ অবসানেরও দাবি জানানো হয়।

৪০ বছর বয়সী গৃহিণী হাদিল সালহা বলেন, ‘রক্তপাত বন্ধ করতে আমাদের প্রথম দাবি হলো ফেডারালিজম—কারণ আলাউয়িদের রক্ত সস্তা নয়, আর সামগ্রিকভাবে সিরিয়াবাসীর রক্তও সস্তা নয়। আমরা কেবল আলাউয়ি হওয়ায় মারা যাচ্ছি।’ সিরিয়ার বেশিরভাগ মানুষ সুন্নি মুসলিম।

যেখানে শুক্রবারের বিস্ফোরণ ঘটে সেই হোমস শহরে সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, তবে সেখানে বেশ কয়েকটি এলাকা প্রধানত আলাউয়ি অধ্যুষিত। এই সম্প্রদায়ের ধর্ম শিয়া ইসলামের ধারাবাহিকতা থেকে উদ্ভূত। আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এবং হোমস প্রদেশের বাসিন্দারা জানান, সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। এএফপি

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।