মাহমুদ হোসেন খান:: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে পশুর প্রতি নির্মমতার সব সীমা অতিক্রম করেছে একদল যুবক। গলায় রশি বেঁধে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে, কুকুরটির মাথায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারা। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যেখানে দেখা যায়—কিছু যুবক চিৎকার করে বলছে, “ভিডিও কর… মরে নাই… মার!” আর আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন দিচ্ছে হাততালি, উপভোগ করছে একটি নিরীহ প্রাণীর মৃত্যু!
ভিডিওতে দেখা যায়, খালের পাড়ের একটি কাঁচা রাস্তায় একটি কুকুরকে গলায় মোটা দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে, পাশের রেইনট্রি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো হয়। এরপর এক যুবক রশি টেনে ধরে রাখে, আরেক যুবক মোটা লাঠি দিয়ে কুকুরটির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। কুকুরটির মাথা ঝুলে পড়লেও পেটানো বন্ধ হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ জুলাই ২০২৫, কলসকাঠী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে।
এ ঘটনায় শুধু একটি প্রাণী নয়, নিহত হয়েছে আমাদের বিবেক, মানবিকতা। ভিডিওতে শিশুরাও উপস্থিত, যাদের সামনে এমন নিষ্ঠুরতা হয়ে উঠেছে বিনোদন। প্রশ্ন উঠেছে—কোন সমাজে আমরা বড় করছি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?
বিশ্বের বহু দেশে পশু নির্যাতনকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, এমনকি তা মানুষের ওপর সম্ভাব্য সহিংসতার পূর্বাভাস বলেও বিবেচিত হয়। অথচ বাংলাদেশে এখনো ‘একটা কুকুর মেরেছে তো কী হয়েছে’—এই দৃষ্টিভঙ্গিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ন্যায়বিচারের পথে।
এভাবে আর কত প্রাণ যাবে ‘ভিডিও কনটেন্ট’ আর বিকৃত আনন্দের শিকার হয়ে? সমাজ কি নীরব থেকে আরও ভয়াবহতার জন্ম দেবে?
নিষ্ঠুরতার এমন নগ্ন প্রদর্শন আর কতকাল সহ্য করবে সভ্যতা?
