সৈয়দ শাহীন:: এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। সবাই শুধু আফসোস করছিল। হিসাব মেলাতে পারছিল না কেউ। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে একসাথে তিন তিনটি কিশোর ফুল ঝরে গেলো অবেলায়। কী অসহ্য কষ্টে মারা গেছে বাবার আদরের সন্তান। মায়ের নাড়িছেঁড়া ধন। বাবা মায়ের তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন এক দিনেই হারিয়ে গেলো।
তারা হয়তো কল্পনাও করেনি বন্ধুরা মিলে মোটর বাইকে ঘুরতে যাওয়ার খেসারত এভাবে জীবন দিয়ে দিতে হবে। ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে গেলো।
গত (৪ জুন) বিকেলে মোটরসাইকেলে সিলেট – তামাবিল মহাসড়কে ঘুরতে যাওয়ার পথে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় তাদের বাইকের। তিনজন একই বাইকে ছিল। একজন ঘটনাস্থলে এবং অপর দুইজন হাসপাতালে মারা যায়। সবাই দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
যারা এমন তরুণ তাজা সন্তান হারিয়েছেন তারাই শুধু জানেন এর যন্ত্রণা। আমরা দূর থেকে শুধু ধারণাই করতে পারবো। তারা যদি জানতেন এরকম হবে তাহলে অবশ্যই চোখে চোখে রাখতেন সন্তানদের। মোটরসাইকেলের কাছেও যেতে দিতেন না।
দোয়া করি, এরকম ট্রাজিক মৃত্যুর এটাই শেষ ঘটনা হোক। সন্তান চাইলেই, আবদার করলেই তাদের হাতে বাইকের চাবি তুলে দেবেন কিনা সেটা আপনার দায়িত্ব। এরকম বুকফাটা কান্নার জন্য প্রস্তুত আছেন কিনা সেটা আপনার বিবেকের কাছে প্রশ্ন।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে মফস্বল পর্যন্ত ছোট ছোট ছেলেরা মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হয়। অভিভাবকরা না চাইলেও কুলিয়ে উঠতে পারেন না তাদের সাথে। অভিভাবকরা সঠিক শাসন, পরিচর্যা না করলে আরও খেসারত দিতে হবে। শুধু টিনএজ নয়, প্রতিদিন শত শত তরুণ পঙ্গু হচ্ছে, জীবন হারাচ্ছে বাইক এক্সিডেন্টে। বাইক চালানোকে হিরোইক এক্ট হিসেবে শো অফ করছে অনেকে। এর রেশ,ক্রেয পৌঁছে যাচ্ছে বাচ্চাদের মাঝেও।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। ক্ষমা করুন।
আল্লাহ ছেলেগুলোকে ক্ষমা করে দিন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। মা বাবা আত্মীয় স্বজনকে শোক সামলে উঠার তৌফিক দিন। আমীন।
লেখক – শিক্ষক।
