সিলেটের কানাইঘাট থানার ওসি’র বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাইঘাট উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী। সম্প্রতি Oc Kanaighat ফেসবুক পেজে সাজু চৌধুরী সম্পর্কে বিষোদগার করে মানহানিকর, ভিত্তিহীন, মিথ্যা, অসৌজন্যমূলক ও উদ্ভট বক্তব্য প্রদান করে অপপ্রচার ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজের অপরাধকে আড়াল করতে তাঁর সম্পর্কে এধরনের ভিত্তিহীন ও গাঁজাখোরী কথা বলছেন। এগুলো পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।সরকারি চেয়ারে বসে বিকৃত মস্তিষ্ক দিয়ে জনগণের সেবা করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন,নিরীহ মানুষকে ডেকে নিয়ে অর্থ আদায় না করে গ্রেফতার করবেন,এর প্রতিবাদ করলে কল্পকাহিনী রচনা করবেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে তা হতে দেয়া যাবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী বলেন, আমি কানাইঘাট উপজেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের একজন সন্তান। দীর্ঘ দিন আমি যুক্তরাজ্যে ছিলাম।গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আমি একজন ব্যবসায়ী।স্বনামধন্য গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল এন্ড রিসোর্টের পরিচালকসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত আছি।এছাড়া আমি একজন সমাজকর্মী। সিলেটের সীমান্তবর্তী চার উপজেলার (কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে গঠিত বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি। আমি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সাথেও সংশ্লিষ্ট রয়েছি। সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও মানবকল্যাণে নিজেকে সবসময় জড়িয়ে রাখাই আমার নিত্যদিনের কর্ম।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমার এলাকার এক নিরীহ মানুষকে কানাইঘাট থানার ওসি ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করেন।সে প্রায় ৮ বছর প্রবাসে ছিল। সাজু চৌধুরী নিজেকে এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দেশের নাগরিক হিসেবে দাবী করে প্রতিবেশীর বিপদে থানায় গিয়ে কথা বলেন।তিনি বলেন,পুলিশ ষ্টেশন দেশের জনগণের প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কানাইঘাট থানা পুলিশ ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিবৃতি প্রদান করে পরোক্ষভাবে জনগণকে থানায় যেতে নিরুৎসাহিত করছে। তিনি প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাহলে কানাইঘাটের ওসি কি থানাকে লুটপাট ও মানুষকে হয়রানির দূর্গে পরিণত করতে চাচ্ছেন?একজন নাগরিক তার ন্যায্য কথা বলতে গিয়ে যদি তদবিরবাজ উপাধি পায়,তাহলে এর চেয়ে লজ্জা আর কি হয়?
আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী কানাইঘাটের ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জনগণের পক্ষে ন্যায্য কথা বলার নাম তদবির নয়।বরঞ্চ ঘুষ খেয়ে পুলিশ কর্তৃক নিরীহ মানুষকে মামলায় ফাঁসানো অন্যায় ও গর্হিত অপরাধ। মানুষের প্রতিবাদকে বিরোধিতা আখ্যায়িত না করে সঠিক ঘটনা উপলব্ধি করতে কানাইঘাটের ওসির প্রতি আহবান জানান। তিনি কানাইঘাট ওসির সোস্যাল মিডিয়ায় প্রদত্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানান।অন্যথায় কানাইঘাটের ওসির দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করা হবে এবং মানহানিকর ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
