বিডি সিলেট ডেস্ক:: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সমাজসেবী, লেখক ও সাংবাদিক নুরুল ইসলাম আজ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজেউন।) ১১ জানুয়ারী সন্ধ্যায় তিনি লণ্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নাসির উদ্দিন খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
নুরুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সিলেট এমসি কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৫২-৫৩ সালে তিনি কলেজ ইউনিয়নের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন এবং ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখেন। ঢাকায় ভাষা আন্দোলনরত ছাত্রদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তৎকালীন গোবিন্দপার্কে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ঐতিহাসিক প্রথম সভায় তিনি সভাপতিত্ব করার বিরল গৌরবের অধিকারী হন !
নুরুল ইসলাম ১৯৬৫ সালের ৬ নভেম্বর ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলাতে যান। তিনি লন্ডনে ১৯৫৮ সালের আইয়ুব-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, ১৯৬৩ সালে ‘ন্যাশনাল ফেডারেশন অব পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন ইন গ্রেট ব্রিটেন’ গঠনের অন্যতম প্রধান এবং ১৯৬৪ সালে ‘ইস্ট পাকিস্তান হাউস’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশে ভ্রমণকালীন লন্ডনে ইস্ট পাকিস্তান হাউসকেন্দ্রিক পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতার নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলে তাঁর লেখাপড়ার সেখানেই ইতি ঘটে ! তিনি দেশে ফিরে ৬-দফা আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, এবং শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ৪ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭১-৭২ সময়ে তিনি প্রশাসনিক সচিব ছিলেন। ভারতে তখন ৪ ও ৫ নং সেক্টরের প্রতিনিধি দেওয়ান ফরিদ গাজীর (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন) একান্ত সচিব ছিলেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রবাসীদের কল্যাণার্থে ‘প্রবাসী বাঙালি কল্যাণ বোর্ড’ গঠিত হলে তিনি এর সচিব হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন।
২০১২ সালে তাঁর লিখা ‘প্রবাসীর কথা’ বই এর জন্য তাঁকে সম্মাননা হিসেবে বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ দেওয়া হয়। গবেষণা গ্রন্থ ‘প্রবাসীর কথা’র অসামান্য অবদান রয়েছে বিশ্ব অভিবাসনের ক্ষেত্রে। ২০১৩ সালে অভিবাসনের উপর তার দ্বিতীয় গবেষণা বই ‘From Sojourner to Settlers’ সম্পূর্ণ করেছেন। বইটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত। তাঁর লিখা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বইগুলো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসাবে পঠিত হয়।
