গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: ইংল্যান্ডে অবস্থান করেও রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মারজান আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানায় দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলায় আসামি করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পিতা।
জানা যায়, মারজান আহমেদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার খাটকাই গ্রামের মো. সোহাগের ছেলে। তিনি ২০২৩ সালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও পারিবারিক কারণে ইংল্যান্ডে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর গোলাপগঞ্জ থানায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
স্থানীয় সূত্র ও মামলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের গোলাপগঞ্জ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজন নিহত ও অনেকে আহত হন। পরবর্তীতে এসব ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায়ও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মারজান আহমেদের পিতার দাবি, এসব মামলার মধ্যে একটি হত্যা মামলাসহ বিস্ফোরক আইন ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মোট তিনটি মামলায় তাঁর ছেলেকে আসামি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মারজান আহমেদ ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না; তিনি ২০২৩ সাল থেকেই ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। ফলে দেশে সংঘটিত এসব ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিদেশে অবস্থানরত মারজান আহমেদকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জ থানাতেও এ ধরনের একাধিক মামলা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। বর্তমানে এই প্রবাসির বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী রহিয়াছে।
