BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘হাজার শহীদের কাপ’ নামে ফিরছে ফিলিস্তিন ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ


আগস্ট ১২, ২০২৬ ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ফুটবলের আলো জ্বালাতে প্রস্তুত ফিলিস্তিন। যুদ্ধের কারণে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ৪ সেপ্টেম্বর আবারো মাঠে ফিরছে ফিলিস্তিনের ঘরোয়া ফুটবল। প্রথম টুর্নামেন্টটি উৎসর্গ করা হবে সংঘাতে নিহত ১০১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে।

রামাল্লায় সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব। ফ্রান্সের ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

প্রথম টুর্নামেন্টের নাম ‘হাজার শহীদের কাপ’

ফিলিস্তিনের ফুটবল ফেরার প্রথম আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাজার শহীদের কাপ’।যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের স্মরণে এই নাম রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিন অলিম্পিক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বর্বরতায় ১০১৪ জন ফিলিস্তিনি খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রথম প্রতিযোগিতাটিকে ‘হাজার শহীদের কাপ’ নামে আয়োজন করা হচ্ছে।

অংশ নেবে ২২৬টি ক্লাব

এই ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ২২৬টি ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ১৪৬টি, গাজা উপত্যকা থেকে ৪৪টি, লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির থেকে ৩৬টি ক্লাব খেলার কথা। তিন অঞ্চলেই একই সময়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ছড়িয়ে পড়া ফিলিস্তিনি ফুটবলকে আবার এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

‘খেলা বন্ধ হলেও আশা হারাইনি’

ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আবার চালুর ঘোষণায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতীয় ইচ্ছাশক্তি হারাইনি, খেলাধুলা যে আশা ও জীবনের প্রতীক হয়ে থাকবে—সেই বিশ্বাসও হারাইনি।’

রাজুব আরো জানান, যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের ক্রীড়া কার্যক্রমেও। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও ফুটবলকে ফিরিয়ে আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফিফার কাছে সহায়তার আহ্বান

ফিলিস্তিনি ফুটবলকে পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন জিবরিল রাজুব। বিশেষ করে চলমান অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলায় ফিফা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

কারণ যুদ্ধের কারণে শুধু ম্যাচ ও লিগ বন্ধ হয়নি; অবকাঠামো, ক্লাব পরিচালনা, খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতার পুরো কাঠামোই বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

লেকিপের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনের ঘরোয়া চ্যাম্পিয়নশিপ ও লিগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গাজা ও পশ্চিম তীর—দুই জায়গাতেই ফুটবল কাঠামো ভেঙে পড়ে। ফিলিস্তিন জাতীয় দলকে তখন দেশের বাইরে খেলতে হয়েছে।

শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, ফিরে আসার বার্তা

ফিলিস্তিনের জন্য ৪ সেপ্টেম্বর দিনটি কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরুর দিন নয়; যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ সময় থমকে থাকা একটি ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আবার দাঁড় করানোর প্রতীকী মুহূর্তও হতে যাচ্ছে এটি।

মাঠে বল গড়ানোর মধ্য দিয়ে নিহত খেলোয়াড়দের স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্যও একটি বার্তা দিতে চাইছে ফিলিস্তিন—যুদ্ধ, ধ্বংসস্তূপ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফুটবল থেমে থাকবে না।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।