BD SYLHET NEWS
সিলেটশনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দিরাইয়ের মোক্তার হোসেনের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ডিআইজি ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশেও মামলা নেননি দিরাই থানার ওসি


আগস্ট ৭, ২০২৬ ৬:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলাধীন ৪নং চরনারচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের লৌলারচর গ্রামের পাকা রাস্তার উপরে মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন একাধিক ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে সরকারি লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করেন ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা খোকন কিবরিয়া। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন হামলার শিকার হন একই এলাকার লৌলারচর গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন। পরে তিনি দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আজও মামলাটি গ্রহণ করেনি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে মোক্তার হোসেন সিলেট রেঞ্জর ডিআআইজি, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন মহলে ধর্না দিলেও তার মামলটি এখনো নথিভুক্ত করেনি দিরাই থানা পুলিশ। ফলে অসহায়ের মত ঘুরছেন এই অসহায় মানুষটি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প এনে কাজ না করে সরকারের লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য খোকন কিবরিয়া। এছাড়াও সরকারি পাকা সড়ক কেটে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে খোকন বাহিনীর লোকজন। মোক্তার হোসেন সরকারি সড়ক কাটতে বাধা দেওয়ায় তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে দিরাই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে ঘটনার এক বছরেও মামলাটি গ্রহণ করেনি দিরাই থানার পুলিশ। এমনকি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, ডি আই জি, সুনামগঞ্জের ডিসির নির্দেশকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না দিরাই থানার ওসি।

৫ আগস্ট সরকারের পট পরিবর্তনের পর লৌলারচর গ্রামের ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন যুবলীগ নেতা খোকন কিবরিয়ার আত্মসাৎমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল দপ্তরে জনস্বার্থে ১২টির মত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খোকন কিবরিয়া তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ২০২৫ সালের ৩০শে জুন মোক্তার হোসেনের বাড়ির সামনে জন চলাচলের রাস্তা কাটতে গেলে মোক্তার হোসেন বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খোকন মেম্বার ও তার বাহিনী মোক্তার হোসেনের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ হামলায় মোক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন, তার একটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয় এবং পরনের পাঞ্জাবি ছিড়ে নগদ দশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে। তিনি দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শেষে মোক্তার হোসেন দিরাই থানায় গিয়ে একই গ্রামের মুসলিম তালুকদার, রুহুল আমিন তালুকদার, বাবুল ইউনুস, মামুন, খোকন মেম্বারসহ ১৮ জনকে বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে এ বিষয়ে লেখালেখি হলেও দিরাই থানার ওসি বিষয়টি আমলে নেননি।

অভিযোগের কপিতে সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস মিয়ার লিখিত সুপারিশও রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এক বছরের বেশি সময় পার হলেও মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি। এতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশও উপেক্ষা করা হয়েছে। এছাড়াও খোকন কিবরিয়ার বিরুদ্ধে টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৪-৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে লৌলারচর গ্রামের ভিতরে পাকা সড়কে গিয়ে দেখা যায় নূর ইসলামের দোকান হইতে সুরমা নদীর পাড় পর্যন্ত সংযোগ পাকা সড়কটির উপরে ইউপি মেম্বার খোকন কিবরিয়া মাটি ভরাট করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে ফলে এখন বর্ষার সময়ে পুরো সড়কটি পরিনিত হয়েছে কাদা পানির সাগরে। প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে হাজার হাজার মানুষ পাকা রাস্তার উপরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পকা রাস্তাটির উপরে মাটি ভরাটের ফলে রাস্তাটি ও রাস্তার পাশে মোক্তার হোসেনের মোদির দোকানের মালামাল প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্থ মোক্তারের দোকানের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাজানো দোকান হারিয়ে তিনি এখন ৪ সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিপূরণের দাবিতে মোক্তার হোসেন ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক দিরাই ইউএনওকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিলে ৮ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও কোনো প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিজিডি কার্ড বিতরণেও অনিয়ম হয়েছে। প্রতি কার্ডে ৫-৭ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খোকন মেম্বারের মাদক ট্রানজিট করতে গিয়ে অনেক বার তার বাহীনীর লোকজন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় তার পরও থেমে নেই তার মাদক ব্যবসা ও জুয়া আসর লৌলারচর মিলন বাজারে। খোকন মেম্বার সুইটেন চক্ররা গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেট তাই সাধারণ মানুষ ভয়ে কেউ এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেনা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সিআইডি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা দিরাই থানাধীন লৌলারচর মিলন বাজারের মাদকের হাটের কথা শুনেছি তদন্ত করে খোকন বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছি।

এ বিষয়ে মোক্তার হোসেন বলেন, “জনস্বার্থে অভিযোগ করায় আমার উপর হামলা হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, খোকন কিবরিয়া ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। ঢাকায় বাড়ি ও দামি গাড়ির মালিক হয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। মোক্তার হোসেনের দাবি তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হোক এবং দায়েরকৃত মামলাটি যেন গ্রহণ করে থানা পুলিশ। তার জানমালের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হোসেন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।