BD SYLHET NEWS
সিলেটরবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বন্যায় ডুবতে পারে যেসব জেলা


জুন ২০, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ধারাবাহিক বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় অবিরাম পানি ঢুকছে। এতে বহু নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকার জমি এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.২ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২.১৫ মিটার। এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ৫১.৬৪ মিটার।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেন, গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে প্রবাহিত পানির চাপ বেড়েছে, ফলে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শোনিল কুমার জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রোববার সকালের মধ্যেই পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, শনিবার ভোরেই তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়ে। পানি আরও বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তাদের চরাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।

মহিপুর তিস্তা চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, উজানের পানির চাপ দেখে এবার বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাদাম পানিতে ডুবে গেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, চরাঞ্চলের শাকসবজি চাষ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীর পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে এসব নদীতে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও তিস্তা নদীতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।