BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: চ্যাটজিপিটির সহায়তায় খুনের পরিকল্পনা!


এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ৩:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চ্যাটজিপিটিতে সার্চ করে হত্যার পরিকল্পনা করা সাজানোর চেষ্টা চলছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর পাশে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ ফরেনসিক পরীক্ষায় জামিল লিমনের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ঘটনায় তাদের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহকে প্রধান অভিযুক্ত করে প্রথম শ্রেণির হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গত শনিবারের শুনানিতে আদালত তাকে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত জামিনবিহীন কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নথিতে উঠে আসে, জামিল ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার পরদিন থেকেই তদন্তকারীরা রুমমেট আবুগারবিয়েহর দিকে দৃষ্টি দেন। ১৭ এপ্রিল জামিলের বন্ধু তাদের অ্যাভালন হাইটস অ্যাপার্টমেন্টে খুঁজতে গেলে আবুগারবিয়েহ দাবি করে সে কিছুই জানে না, অথচ জামিলের স্কুটারটি অ্যাপার্টমেন্টেই ছিলো।

বৃষ্টির বন্ধু জানান, ১৬ এপ্রিল দুপুর ২টা ১৪ মিনিটে বৃষ্টির সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল, বিকেল ৫টায় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা থাকলেও বৃষ্টি আর আসেনি।

তদন্তে জানা যায়, বৃষ্টির আইপ্যাডে ফেসবুক মেসেঞ্জার কথোপকথনে তারা একে অপরের সঙ্গে লোকেশন শেয়ার করছিলেন। বৃষ্টির ফোনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে তিনি অফিস থেকে বের হন এবং পরে জামিলের ঘরে তার ব্যবহৃত জুতা ও ছাতা পাওয়া যায়।

জামিলের ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং অনুযায়ী, রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে সেটি কোর্টনি ক্যাম্পবেল সেতুর দিকে যায় এবং ৮টা ২৫ মিনিটে ক্লিয়ারওয়াটারে অবস্থান দেখায়। ঠিক এ সময়ের সঙ্গে মিল রেখে আবুগারবিয়েহর সাদা হুন্দাই জেনেসিস জি৮০ গাড়িটিকে রাত ৭টা ৫৩ মিনিটে কোর্টনি ক্যাম্পবেল সেতুতে দেখা যায়।

চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে আবুগারবিয়েহর ফোন থেকে। গত ৭ এপ্রিল অ্যামাজন থেকে ডাক্টটেপ, ১১ এপ্রিল ফায়ার স্টার্টার, চারকোল ও লাইটার ফুয়েল এবং ১৫ এপ্রিল একটি নকল দাড়ি অর্ডার করেছিল।

১৩ এপ্রিল সে চ্যাটজিপিটিতে সার্চ করে, ‘একজন মানুষকে কালো ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়?’ চ্যাটজিপিটি এটিকে বিপজ্জনক বললে সে পাল্টা লেখে, ‘তারা কীভাবে জানবে?’ এর পাশাপাশি সে গাড়ির ভিআইএন নম্বর বদলানো, লাইসেন্স ছাড়া বন্দুক রাখা এবং স্নাইপারের গুলিতে কেউ বাঁচে কি না, তা নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধান চালিয়েছে। হত্যার পর ১৭ এপ্রিল রাত ১২টা ২৬ মিনিটে সে জিজ্ঞেস করে, ‘হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি চেক করা হয় কিনা।’

২৪ এপ্রিল ওই সেতুতে তল্লাশিতে একটি ভারী কালো ট্র্যাশ ব্যাগ পাওয়া যায়, যার ভেতরে ছিলো জামিল লিমনের দেহাবশেষ। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত’ নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

ইউএসএফ এক বিবৃতিতে এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ সরকারের নিজ খরচে জামিল লিমনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং ঠিক কীভাবে কোন স্থানে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তার বিস্তারিত এখনো জানা না গেলেও, দুটি হত্যাকাণ্ডের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত রুমমেটের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।