সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় হাওরে ফসল রক্ষায় বাঁধ কাটা ও মেরামতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের পেছনে টগার হাওর এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজাপুর গ্রামের একদল কৃষক বনিয়ানদীর মুখে স্থানীয় কৃষকদের নির্মিত বাঁধ কেটে দেয়। এতে টগার হাওরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে এবং হাওরের ফসল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
পরদিন শনিবার দুপুরে পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিজুড়ি ও চকিয়াচাপুর এবং জয়শ্রী ইউনিয়নের লক্ষণখলা গ্রামের কৃষকেরা বাঁধটি মেরামত করতে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় রাজাপুর গ্রামের কৃষকেরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতের কোন খবর জানা যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এর আগে শুক্রবার সকাল থেকেই শৈলচাপড়া হাওরের কৃষকেরা বালিজুড়ি গ্রামের সামনে এবং রাজাপুর গ্রামের পেছনের বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি তুলেন। তাদের দাবি ছিল, বাঁধ কেটে দিলে পানি দ্রুত নামবে। তবে টগার হাওরের কৃষকেরা আশঙ্কা করেন, এতে পানি বেড়ে গেলে তাদের হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
শুক্রবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বালিজুড়ি গ্রামের সামনে গিয়ে সমঝোতা করেন। একই সঙ্গে বনিয়ানদীর মুখসহ সংশ্লিষ্ট বাঁধগুলো কাটা যাবে কি না, তা যাচাই করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিন্তু কমিটির সিদ্ধান্ত আসার আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজাপুর গ্রামের ক্ষুব্ধ কৃষকেরা বাঁধ কেটে দেন। এতে শনিবার সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত আসার আগেই বাঁধ কেটে দেওয়া উচিত হয়নি। কোনোভাবেই বাঁধ কেটে এক হাওরের পানি অন্য হাওরে নামানো যাবেনা। যে বা যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
