মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এবার কুয়েতের সালেমি বিল এলাকায় জাহেদ হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উট নিয়ে ফেরার পথে মরুভূমিতে তাঁর মৃত্যু হয়। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। তবে মাইন বিস্ফোরণ নাকি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে জাহেদ মারা গেছেন, তা শুক্রবার পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
জাহেদের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবার নাম কামাল উদ্দিন। জাহেদ কুয়েতে খামারে উট দেখাশোনার কাজ করতেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এর আগে ১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বেসামরিক স্থাপনায় ইরানের বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে প্রাণ হারান সিলেটের বড়লেখার গাজীটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের আহমদ আলী সালেহ (৫৫)। পরের দিন সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে উপকূলীয় এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে নিহত হন আরেক বাংলাদেশি মহসিন তারেক (৪৮)। তাঁর গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। এ ছাড়া সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাত বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মানামায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নাজিম উদ্দীন নামে সন্দ্বীপের আরেক প্রবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে বাহরাইনের কিং হামাদ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত জাহেদের রুমমেট লুৎফর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বাসায় ফিরে বন্ধুকে দেখতে না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজার পর মরুভূমিতে মৃত অবস্থায় জাহেদকে খুঁজে পান তিনি।
নিহতের ভগ্নিপতি বাবর উদ্দিন জানান, চার বছর আগে উট চরানোর ভিসায় জাহেদ কুয়েত যান। তাঁর দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর সহকর্মীদের মাধ্যমে জাহেদের মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে সন্দ্বীপের দুজন নিহত হওয়ায় গোটা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাহেদ হোসেনের মৃত্যুর খবর শুনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন ও সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
