BD SYLHET NEWS
সিলেটশনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৫০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পূর্ববিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৯


অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলাকান্দি সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

নিহত কাওছার হাওলাদার উপজেলার আলমদী গ্রামের মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় কাওছার হাওলাদার ও আশিকুল হাওলাদারের সঙ্গে নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ সৃষ্টি হয়।

অপর একটি সূত্রের দাবি, এর আগে আলমদী এলাকায় সজল হাওলাদারকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরে তার ভাই সৌদি আরব প্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না সামাজিক মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। জানা গেছে, ইকবাল গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার, আশিকুল হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের সঙ্গে ইকবাল হোসেন নান্না ও তার ছেলে সাজিদ মোল্লার হাতাহাতি হয়। পরবর্তীকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আলোচনা চলছিল বলে জানা যায়।

এদিকে ওই ঘটনার পর সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদার ঢাকায় অবস্থান থেকে একটি হাইয়েস গাড়িতে করে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আরো লোকজন সাতলা এলাকায় আসে বলেও স্থানীয়দের দাবি।

পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতলাকান্দি সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন এবং একপর্যায়ে সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাওছার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তবে রাশেদ আমিন হাওলাদার দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এবং পরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর সাতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদারসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লাসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ফয়জুল আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উজিরপুর মডেল থানার এএসআই অন্তর আহমেদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং আটকদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতলা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।