BD SYLHET NEWS
সিলেটশুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৫৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদক-মেলামেশা-আড্ডায় গ্রেপ্তারদের ৩৪ জনই ঢাবি-নর্থ সাউথ-বিইউপি-কলেজের শিক্ষার্থী


অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজির বাসাতে মাদক ও মদের আড্ডা থেকে আটক ৮৫ নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বলে পরিচয় দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১২ জন ছাত্রী এবং ২২ জন ছাত্রের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে।

তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, ওই বাড়িটিতে রহস্যময় বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ৫ জন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের (আইইউবি) ৪ জন। তাছাড়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ৩ জন করে রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছেন দুজন। এ ছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রীও রয়েছেন এই তালিকায়।

জানা গেছে, গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিতর্কিত বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কমপক্ষে ২০ জন কর্মকর্তা। ছিলেন গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ফিলিপ মরিস, ইয়ামাহা মোটরসাইকেল সংযোজনকারী ও পরিবেশক এসিআই মোটরসসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত পদস্থ কর্মকর্তারা। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার একটি বাড়িতে জড়ো হওয়াকে ‘কাকতাল’ মানতে নারাজ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও গোয়েন্দারা। তারা বলছেন, ওই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রহস্যময় ষড়যন্ত্র।

পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ের ওই বাড়িটি মঙ্গলবার ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের। বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল। সেখানে গত সোমবার রাতে অভিযানে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। তবে অভিযান থামাতে নানামুখী তদবির করেন আব্দুল্লাহ আল জহির। কিন্তু তদবির উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত রাখে ডিবি পুলিশ।

পরে সেখান থেকে মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫৯ ও নারী ২৬ জন। আটকদের মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়। পুরুষদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নারীদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মঙ্গলবারই তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ২৬ জনকে নেওয়া হয় কাশিমপুর কারাগারে। অন্যরা আছেন কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ।

গ্রেপ্তারকৃতদের একাংশ
দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে সাজাপ্রাপ্তদের তালিকা সংগ্রহ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তাতে দেখা যায়, অনেকে তাদের সঠিক নাম দিলেও পেশা, বাড়ির ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেননি। ফলে আটকদের পরিচয় নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। অনেকে ছদ্মনামও ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত এসব নারী ও পুরুষের প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের। তাদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই কন্যা, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ছেলে ও মেয়েরা রয়েছে। আছেন একটি বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থার ট্রেইনি ক্যাপ্টেনও। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বিস্তারিত পরিচয়, পেশা, সেখানে জড়ো হওয়ার উদ্দেশ্য, সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে।

খিলক্ষেত থানার ওসি আব্দুল আলীম আমার দেশকে বলেন, আমাদের কাছে কোনো আসামি হস্তান্তর করা হয়নি। ডিবি পুলিশের অভিযানের পর মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান ও জরিমানা করা হয়। ডিবির তত্ত্বাবধানে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি।

তালিকায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যারা
১৫ দিনের কারাদণ্ড পাওয়া ২৬ নারীর মধ্যে ১২ জনই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রী। তারা হলেন— নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করা কেএম সাওফা সিলভি (২৬, পিতা কেএম এনায়েতুর করিম), এশিয়াটিকের কর্মকর্তা ও প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ বর্ষের সামজানা মেহজাবীন (২৬, পিতা ইদ্রিস আলী), ধানমন্ডির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী মালিহা (পিতা আব্দুল বাতেন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারিকা (২৫, পিতা আব্দুল হান্নান চৌধুরী), রাজধানীর কাওলা সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী তাসকিন হোসাইন রাহা (১৯, পিতা তানভীর হোসেন), ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে অনার্স সম্পন্ন করা হৃদি (২৪, পিতা মমিনুর রশিদ), পেনস্টোন একাডেমির নায়মা (পিতা আমিনুল ইসলাম), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফরা (২৪, পিতা আব্দুল মান্নান), বিইউপির সাবেক ছাত্রী সামরাইন (২৩) ও তার বোন আইইউবির ছাত্রী সোহা (২১, পিতা শফি ইকবাল), বিইউপির ছাত্রী জারিন তাসনিম (২৬, পিতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সোয়েব) এবং চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ছাত্রী রুবাবা মোহাম্মদী (২৫, পিতা আব্দুল কাদির)।

সাজাপ্রাপ্ত অপর নারীরা হলেন—এশিয়াটিকের কর্মকর্তা মিরপুরের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আফসানা বুলবুল (২৭, পিতা হামিদ নেওয়াজ), টঙ্গীর এবিএ গার্মেন্টসের কর্মকর্তা ফারিয়া জামান (২৬, পিতা আক্তারুজ্জামান), ক্লোথিং ব্র্যান্ড উদ্যোক্তা ফারিয়া সুন্নাহ (২৭, পিতা ফেরদৌস আলী), সিটি ব্যাংকের অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার নিশাত সাল সাবিল মিম (২৭, পিতা নুরুল ইসলাম), গেট লিবরেজের অপারেশন স্পেশালিস্ট রিফা (২৬, পিতা শাহ আলম), মোহাম্মদপুরের ইফতিদা (২৩, পিতা মিন্টু), ক্লোথিং ব্র্যান্ড উদ্যোক্তা মুনমুন রায় বর্ষা (২৫, পিতা বিমল রায়), এসিআই মোটরসের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা মোটরের প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ নাছরিন সুলতানা (২৬, পিতা জামান হোসেন), ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কনসালটেন্ট ও গ্রামীণফোনে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত সায়মা (২৬, পিতা মঞ্জুরুল মাওলা), ডিজিটাল প্রোডাক্ট কোম্পানির ফ্রিল্যান্সার ও এশিয়াটিকে কর্মরত ওয়াফা (৩২, পিতা রফিক)।

এছাড়াও তালিকায় আছেন আমেরিকাভিত্তিক কল সেন্টারে কর্মরত মোহাম্মদপুরের আনিকা বেলাল করিম (৩০, পিতা আনিস মাহমুদ), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মালিহা (২৬, পিতা জাকির রহমান), মিরপুর ডিওএইচএসের সাবরিনা (১৯, পিতা সিহাব ইকবাল) এবং আমেরিকা থেকে ছুটিতে আসা সামিয়া (২৫, পিতা কামরুজ্জামান)।

সাজা পেয়েছেন ২২ ছাত্র, এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা
অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার ৫৯ পুরুষকে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রয়েছেন একজন। তারা হলেন—ধানমন্ডির পাভেল শাহাবুদ্দিনের ছেলে ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) ছাত্র আল শাহরিয়ার রুদ্র (২২), বনানীর আব্দুল ছাত্তারের ছেলে ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র হানজালা নূর সাঈদ (২৭), পশ্চিম মালিবাগের শাহ মো. জুবায়ের হোসেনের ছেলে ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র শাহ মো. শাফায়েত হোসেন (২২), ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বরের আব্দুর রহমানের ছেলে ও গাজীপুরের আইইউটির ছাত্র নাঈমুর রহমান (২৬), উত্তর বাড্ডার ইমরুল আলমের ছেলে ও উত্তরার শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাইফুল ইসলাম রাফি (২৬), ধানমন্ডি-৩২-এর কামরুল ইসলামের ছেলে ও আইইউবির ছাত্র হাসিব খান (২৬)।

গ্রেপ্তারকৃতদের একাংশ
তালিকায় আরও আছেন— উত্তর কাফরুলের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে ও আদমজী কলেজের সাবেক ছাত্র শায়ান কিবরিয়া (১৯), কলাবাগান সেন্ট্রাল রোডের সোহেল আহমেদের ছেলে ও বিইউপির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফারহান আহমেদ (২৫), মোহাম্মদপুরের শেখ ফজলুল হকের ছেলে ও আইইউবির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শেখ ফাহিম হক (২৬), পল্লবীর এমএ গফুরের ছেলে ও বিইউপির এমবিএ ছাত্র মেহরাব রহমান (২৬) এবং রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন এলাকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকিরের ছেলে ও বিইউপির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হিম (১৯), মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের হাসান মোহাম্মদ তানভির ইমতিয়াজের ছেলে ও আদমজী কলেজের সাবেক ছাত্র রাশিক ইভতেসাম (২০), ভাটারার রাশেদুল হকের ছেলে ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাশেদুল হক রাফিয়াদ দারাজাদ হক (২৩), ধানমন্ডির ড. হাবিবুর রহমানের ছেলে ও কিংস কলেজ লন্ডনের ছাত্র মাহমুদ ফাহিম রহমান শান্ত (২৫), শাহজাহানপুর শহীদবাগের মঈনুল হকের ছেলে ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সাফওয়ান হক (২৭)।

এ ছাড়া বসুন্ধরার জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ও এআইইউবির ছাত্র রাফি আহমেদ চৌধুরী (২২), ইসিবি চত্বরের জামাল হোসেন সিকদারের ছেলে ও বিইউপির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জুবায়ের সিকদার (২৫), মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের আব্দুস সালামের ছেলে ও এমআইএসটির ছাত্র এবং রিসার্চ অ্যানালিস্ট ফয়সাল আহমেদ (২৪), ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা বাজারের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র তানজিদ ইসলাম সিয়াম (১৯), পশ্চিম রামপুরার ইয়ামিন খানের ছেলে ও বিআইইউপির সিএসই বিভাগের ছাত্র ইউসুফ খান পলক (২৫), ক্যান্টনমেন্ট ইসিবি এলাকার মাইনুদ্দিন মানিকের ছেলে ও আইইউবিএটির বিবিএ বিভাগের ছাত্র মনিরুল ইসলাম (২৬) এবং উত্তর বাসাবোর মহসিন সরকারের ছেলে ও এআইইউবির সিএসই বিভাগের ছাত্র ফাইজাল আলভি সরকার আদবও (২৫) রয়েছেন এই তালিকায়। সাজা পাওয়া কর্মকর্তা নর্থ কাফরুলের সুলতান আহমেদের ছেলে ফেরদৌস আহমেদ (৩০) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগে কর্মরত।

সাজা পাওয়া অপর ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারের সুকেন্দু বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে রানা বড়ুয়া (৩৮), মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদুল হাসানের ছেলে নাদবি হাসান (২৬), উত্তর ইব্রাহিমপুরের আবু জাফর মোল্লার ছেলে সাদমান রাফিক (২৫), উত্তরা পশ্চিমের মৃন্ময় গুহের ছেলে পরম গুহ (২৬), ধানমন্ডির আবু মো. শফিউল আজমের ছেলে আবু মো. মুহসিউল আজম (৩২), গ্রিন রোডের উমর আল ফারুকের ছেলে মোরসালিন (২৪), গুলশান-২-এর এহসানুল হকের ছেলে রাইয়ান আব্দুল্লাহ সাকিবুল হক (২৭), মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদ উল্ল্যার ছেলে রামিম আল রাফি নাসিম (২৫), শেওড়াপাড়ার ইছাক আলীর ছেলে ও ধানমন্ডির সেলিস এইচআরে ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত সাদমান সাকিব (২৮) এবং ভাটারা ব্লক-জির মির্জা বকুলের ছেলে মির্জা আরেফিন (২৭)।

এতে আরও আছেন—পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আহসান হাবীব সুমনের ছেলে ও গুলশান-১-এর ইটিআই বাংলাদেশ এনজিওর কর্মকর্তা সাদমান বিন আহসান (২৫), বনানীর নিয়ামত উদ্দিন আহমেদের ছেলে ও ফিলিপ মরিসের (মালবোরো) ম্যানেজার তাওহিদ (২৭), পল্লবীর নুরুল ইসলামের ছেলে ও মারভেল কোম্পানির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সাদাত (২৮), কাফরুলের জাহাঙ্গীর হারুনের ছেলে ও ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ব্যবসায়ী জিফান তাহমিদ (২৯), বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার শাহিন ভূঁইয়া (৩২), পুরান ঢাকার কোতোয়ালির ফারিয়াজ আরজুর ছেলে ও ইস্ট ওয়েস্ট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন অফিসার ফারাহিম ফাইয়াজ (২৭), খিলক্ষেত লেকসিটির বাবর আলীর ছেলে ও গোল্ডেন সানরাইজের ম্যানেজার মাহবুবুল আলম (৩৮), কাঁঠালবাগানের জয়নাল আবেদিনের ছেলে ও অনলাইন পেজ মডারেটর আইমান আবেদিন রাফিন (২৫), কোতোয়ালির নবাবপুর রোডের এরফান হাসান (৩০), যিনি ঢাকা ট্রিবিউনের সাবেক সাংবাদিক, ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে ও প্রাণ-আরএফএলের ব্র্যান্ড ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম তানজিম (২৭), কাফরুলের মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে ও ইনভিজিবল টেকের (যুক্তরাষ্ট্র) ডেটা অ্যানালিস্ট মাফি মুস্তাফা (২৫) এবং আফতাবনগরের শফিক উল্লাহর ছেলে ও এশিয়াটিক মিডিয়া লিমিটেডের (এএমএল) সিনিয়র ম্যানেজার তানজির আহমেদ (৩১)।

এ ছাড়া মিরপুর-১২ পল্লবীর মো. মাইনুদ্দিনের ছেলে ও এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার বিডির স্ট্র্যাটেজিক কর্মকর্তা সাজিদ মাহমুদ (২৬), ধানমন্ডির মাহফুজুর রহমানের ছেলে ও ফোর ট্রেডার্স লিমিটেডের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ওমর বিন মাহফুজ (২৪), বসুন্ধরার সাজ্জাদুল আলম সেজান (২৭), বনশ্রী রামপুরার মিজান মাওলার ছেলে ও প্রাইমটেক্স লিমিটেডের সিনিয়র ভেন্ডর ম্যানেজার আফতাবুল মাওলা রাব্বি (২৪), শান্তিনগরের শাহ নিয়াজ আকনের ছেলে হাসান হাফিজুর (২৭), খিলক্ষেতের রেজাউল করিমের ছেলে সাজিউর রহমান (২৬), শান্তিনগরের শহিদুল আলম চৌধুরীর ছেলে হামেদ হাসান (২৪), শান্তিনগরের মহিউদ্দিন খানের ছেলে ফারহান খান সাদাফ (২৫), দক্ষিণখানের কাজী তাহমিদ ইসলাম (২৮), যিনি এশিয়াটিকের কমনিওর কোম্পানিতে এসডিআর পদে কর্মরত, লালমাটিয়ার শেখ মনিরুল আলম টিটুর ছেলে শেখ অধ্যায় আলম (২৩), মিরপুর-১০-এর মাসুদ রানার ছেলে আরিয়ান মানাভ (২৭), পশ্চিম শেওড়াপাড়ার জলিল উদ্দিনের ছেলে নাহিন আলী জাকি (২৬), মিরপুর ডিওএইচএসের জামাল হোসেনের ছেলে তাজওয়ার তাহমিদ জামাল (২৬) এবং ঢাকার কাঁটাবন রোডের শেখ ফরিদ হোসেন চৌধুরীর ছেলে আইমান শাবিত চৌধুরীও (২৫) আছেন এই তালিকায়।

তবে তাদের বিষয়ে পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অনেকে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন।

যা বলছে পুলিশ
অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির নামে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আসর বসত। মদ, নারী ও অসামাজিক কার্যকলাপ—সবই চলত ফ্রি স্টাইলে। তল্লাশিতে বাড়িটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট এই বাড়িতে একেকটি রুম ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নিত এবং অতিরিক্ত লোক থাকলে প্রতিজনের জন্য ৬০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হতো। দুপুর ১২টা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে মাসে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি প্রোগ্রাম হতো এবং প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকে লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হতো।

সূত্র: দৈনিক আমার দেশ।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।