আবাসন সমস্যা দূর করতে ৫ একর জায়গা নিয়ে একটি ‘গ্রিন ইকো ভিলেজ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এ আবাসন প্রকল্পে সাংবাদিকদের জন্যও সুযোগ রাখা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সিলেটে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। সিউক নগরীর আবাসন সমস্যা, অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ৫ একর জায়গার ওপর পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ইকো ভিলেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে আগামী ৫ ও ৬ অক্টোবর দু’দিনব্যাপী ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উদযাপনের কর্মসূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কয়েস লোদী বলেন, “সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রার শুরু থেকেই নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা শুধু ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; একটি বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত সিলেট গড়ে তুলতে চাই।” নাগরিক সেবা সহজীকরণে সিউকের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, খুব শিগগিরই চালু করা হচ্ছে ‘ECPS’ (Electronic Construction Permitting System)। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা ঘরে বসেই নির্মাণসংক্রান্ত আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনলাইনে ট্র্যাক করার সুবিধা পাবেন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে নাগরিকদের সময় ও শ্রম দুটোই কমবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের বাইরে থেকেও সিউকের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। “Adequate Housing for All” বা “সর্বজনীন বাসস্থান: টেকসই নগরায়ণ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে আগামী ৫ ও ৬ অক্টোবর দু’দিনব্যাপী বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হবে।
সিলেটের রিকাবীবাজারস্থ স্টেডিয়াম সংলগ্ন মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়াম ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রথম দিন ৫ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১১টায় প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা এবং দুপুর ১টায় নাগরিক সেবা সহজীকরণে ECPS-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
এছাড়া সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘আইডিয়া কম্পিটিশন’, মডেল প্রদর্শনী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।
নতুন প্রজন্মকে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশবান্ধব আবাসন সম্পর্কে উৎসাহিত করতে চিত্রাঙ্কন ও আবাসনবিষয়ক ‘আইডিয়া কম্পিটিশন’-এর আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরায়ণ ও আবাসন নিয়ে ৩০টিরও বেশি ধারণা জমা পড়েছে বলে জানান সিউক চেয়ারম্যান।
কয়েস লোদী বলেন, “আগামী দিনের সিলেট কেমন হবে, সে বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনাকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। তাদের উদ্ভাবনী ধারণা পরিকল্পিত নগরায়ণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” দ্বিতীয় দিন ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পরিবেশ সুরক্ষায় আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন’ বিষয়ক বিশেষ সেমিনার। দুপুর সাড়ে ১২টায় আইডিয়া ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান এবং বিকেল ৫টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
বিশ্ব বসতি দিবসের এ আয়োজনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), লিডিং ইউনিভার্সিটি, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি), ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), আইডিইবি, স্যারেগ, এএসএএফসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আবাসন খাতের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। সিলেট নগরীকে পরিকল্পিতভাবে তিল তিল করে গড়ে তুলতে গণমাধ্যমসহ সব নাগরিকের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য।”
তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ শুধু সরকারের কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এর সঙ্গে জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী, স্থপতি, আবাসন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
“আমাদের লক্ষ্য এমন একটি সিলেট গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের আবাসন নিশ্চিত হবে, নাগরিক সেবা হবে সহজ ও স্বচ্ছ, পরিবেশ থাকবে সুরক্ষিত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগরী রেখে যাওয়া সম্ভব হবে,” বলেন কয়েস লোদী।
