BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আন্দোলনের মুখে সালাউদ্দিন কাদের-নিজামী-সাঈদীদের ছবি সরিয়ে দিল প্রশাসন


আগস্ট ৩, ২০২৬ ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে ‘একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত’দের ছবি সংবলিত একটি বিলবোর্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল রবিবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত একাংশ শিক্ষার্থী দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠক করে বিলবোর্ড থেকে ‘রাজাকারদের’ ছবি অপসারণের দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন আপত্তিকর ছবিগুলো সরিয়ে ফেলা বা ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ (বিচারিক হত্যা) শিরোনামের মূল বিলবোর্ডটি সরিয়ে সেখানে একটি পরিবর্তিত সংস্করণ বসানো হয়েছে। নতুন এই বিলবোর্ডে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ছয় ব্যক্তির ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে স্থান পেয়েছে সুখরঞ্জন বালী ও বজলুল হুদার ছবি।

বিতর্কিত পোস্টারটি টানিয়েছে ‘নভোকালচার’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। পোস্টারটিতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে তাদের ওপর ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ লেখা ছিল। পোস্টারটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং ক্যাম্পাসে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

ওই বিলবোর্ডে থাকা ছবির মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া বাকি সবাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা। তারা হলেন- জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী।

এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমান হত্যায় জড়িত মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবি রাখা আছে। ছবির নিচে লেখা হয়েছে, ‘জেলখানায় ফাঁসির নামে বজলুল হুদাকে হাসিনা নিজে জবাই করে।’ এছাড়া বিচার চলাকালে সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর নিখোঁজ হওয়া ও বিচারপতি মানিক মিয়ার ছবি আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, ৭১-এর ইস্যু অনেক আগেই মীমাংসিত। শহীদ ড. শামসুজ্জোহার কবরের পাশে রাজাকারের ছবি টানানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নভোকালচার নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি দিয়ে তাদের ১৯৭১ সালের অপরাধকে স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেয়। কয়েক দফা আলোচনার পর প্রশাসন আমাদের জানায়, চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি অপসারণ করা হবে। প্রক্টর স্যারের আশ্বাসে আমরা আপাতত আমাদের আন্দোলন স্থগিত করেছি।

শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ১৯৭১ বাংলাদেশের একটি মৌলিক ইস্যু। শেখ হাসিনা বা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনোটিকেই আড়াল করার সুযোগ নেই। কিন্তু ‘২৪-এর আয়োজনকে কেন্দ্র করে খুব সুকৌশলে ৭১-এর ঘাতক ও দালালদের স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে গোলাম আজমের মতো ব্যক্তিদের গৌরবান্বিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিলবোর্ডে কিছু ব্যক্তির ছবিসংবলিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। তাই আমার পক্ষ থেকে নভোকালচারের পরিচালক ও রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে এটি সরিয়ে নিতে বলেছি। তবে নভোকালচার কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল, তারা পোস্টারটি সরাবে না। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিলবোর্ড থেকে বিতর্কিত নামগুলো সরিয়ে নিয়েছি।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।