মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি কমলা ও মাল্টা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ভুক্তভোগী সালমা বেগম ও তার স্বামী আলিম উল্লাহর দাবি, বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই ২০১৮ সালে তারা বাগানটি গড়ে তোলেন। আট বছর ধরে পরিচর্যার পর চলতি মৌসুমে প্রথম বড় পরিমাণে ফলন পাওয়ার আশা করেছিলেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ায় তাদের বাগানটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আলিম উল্লাহ বলেন, ‘বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই ২০১৮ সালে আমরা কমলা ও মাল্টার বাগান করি। আট বছর ধরে শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেছি। বাগানে ফলন আসার পরপরই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। বন বিভাগের লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ায় এই সর্বনাশ করা হয়েছে।’ সালমা বেগমের দাবি, আশপাশে আরও বাগান থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে শুধুমাত্র তাদের বাগানটি ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বন বিভাগ বলছে, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কমলগঞ্জ রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া বলেন, ‘সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।’
ঘটনাটি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত। প্রকৃত ঘটনা তদন্তে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। সবকিছু পর্যালোচনা করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। এরপর সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বন বিভাগ সরকারি জমি উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে কৃষকের ১২০০ ফলধরা কমলা ও মাল্টা গাছ কেটে ফেলে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বাগানটি কীভাবে গড়ে উঠেছিল, বন বিভাগের অনুমতির বিষয়টি কী ছিল, উচ্ছেদ অভিযান আইনসঙ্গত ছিল কি না এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
