BD SYLHET NEWS
সিলেটরবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৫৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংসদে আমীরে মজলিসকে নিয়ে প্রদত্ত বক্তব্য অনভিপ্রেত, বিভ্রান্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন:


জুন ২০, ২০২৬ ৮:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (BKM) এর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী বলেছেন, গত ১৮ জুন জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে ঢাকা- ১ আসনের এমপির বক্তব্য এবং পরবর্তীতে স্পিকারের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যে মাওলানা মামুনুল হককে সংসদে যেতে দেওয়া হয়নি, আজ তিনি সংসদে উপস্থিত না থাকলেও সংসদের ভেতরে তাঁকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয়, কিছু রাজনৈতিক মহল এখনো তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয় পায় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুরোনো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বয়ান পুনরুজ্জীবিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

মাওলানা মামুনুল হকের মামলায় বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতের বিচারে মাওলানা মামুনুল হক নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি একাধিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এরপরও জাতীয় সংসদের স্পিকার কীভাবে সেই ঘটনাকে “পরকিয়া” ও তাঁর “জীবনের অন্ধকার অধ্যায়” বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে, “মামুন সাহেব বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেননি”—তা অত্যন্ত বিস্ময়কর, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

সংসদ সদস্য ও স্পিকারের বক্তব্যে বিষ্ময় প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, বিস্ময়ের বিষয় হলো—স্পিকার একদিকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার নির্দেশ দেন, অথচ অন্যদিকে নিজেই একই বিষয়ে অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। এটি কেবল পরস্পরবিরোধী অবস্থানই নয়; বরং স্পিকারের নিরপেক্ষতা সম্পর্কেও জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের এমন দ্বিচারিতা তাঁদের সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং একটি নিষ্পত্তিকৃত বিষয়কে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তাঁদের ভুল তথ্য বা অপর্যাপ্ত ধারণার দায় আল্লামা মামুনুল হকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিংবা তাঁর চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।

সভায় নেতৃদ্বয় অবিলম্বে স্পিকারকে তাঁর বিভ্রান্তিকর ও অনভিপ্রেত মন্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং আল্লামা মামুনুল হকের প্রতি করা অন্যায় মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় সম্পূর্ণরূপে স্পিকারকেই বহন করতে হবে।

একই সঙ্গে তাঁরা ফ্যাসিস্ট আমলের মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করার সকল অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান এবং সত্য, ন্যায়, আইনের শাসন ও ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আজ (২০ জুন শনিবার) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে সিলেট কালেক্টরেট মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি জননেতা মাওলানা মুহাম্মদ ইকবাল হুছাইন। শাখা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম ও সহ সম্পাদক মাওলানা আসাদুজ্জামান আসাদ এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এডভোকেট মাওঃ শাহীনূর পাশা চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা সামিউর রহমান মুসা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর আমির ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা এমরান আলম, জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আনোয়ার হোসাইন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ ও মাওলানা মহিবুর রহমান, মহানগরের সাবেক সভাপতি মাওলানা গাজী রহমাতুল্লাহ, জেলা সহ সম্পাদক মুফতি সৈয়দ নাসির উদ্দিন, শ্রমিক মজলিস সিলেট মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা এখলাছুর রহমান, যুগ্ন আহ্বায়ক মাওলানা আরিফুল হক ইদ্রিস, মহানগর সহ সম্পাদক হাফিজ কয়েছ আহমদ, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন, জেলা সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শিহাবুল ইসলাম, মহানগর প্রচার সম্পাদক মাওলানা মনিরুল ইসলাম চৌধুরী ফুয়াদ, জেলা সহ সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা জিয়াউদ্দিন ও মাওলানা ফেদাউর রহমান দিদার, জেলা অফিস সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান জাহান, জেলা নির্বাহী সদস্য মাওলানা হুসাইন আহমদ, মাওলানা রেজাউল হক, মাওলানা শাহ ফয়সল আমীন, ক্বারী ছাঈদ আহমদ, মাওলানা আনসার আহমদ, হাফিজ মাওলানা ইয়াহ’য়া মাহমুদ, মহানগর নির্বাহী সদস্য মহানগর নির্বাহী সদস্য মাওঃ আব্দুল মান্নান আজাদ, আবুল হোসেন ছুফি, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, খেলাফত যুব মজলিসের জেলা সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, খেলাফত ছাত্র মজলিসের জেলা সভাপতি মোঃ আবু তাহের প্রমুখ।

বিক্ষোভ সভা পরবর্তী মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিটি পয়েন্টে এসে জেলা সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও ১১দলিয় ঐক্যের জেলা শাখার অন্যতম সমন্বয়কারী ও জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আনোয়ার হোসাইন এর মোনাজাতের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।