BD SYLHET NEWS
সিলেটশুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা ও সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণ


জুন ১২, ২০২৬ ২:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভুল চিকিৎসা, রোগীর মৃত্যু এবং সেবাব্যবস্থায় চরম গাফিলতির পর এবার নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে সিলেটের ‘ইবনে সিনা হাসপাতাল’। বেসরকারি এই হাসপাতালটির নিউরোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এবং ‘দৈনিক শুভ প্রতিদিন’র নির্বাহী সম্পাদক ফয়ছল আলমের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চিকিৎসাক্ষেত্রে ইবনে সিনাকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ওই সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে ‘ইবনে সিনা’ হাসপাতালে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার একটি ঘটনা শেয়ার করেন ফয়ছল আলম। তার এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ফেসবুক পোস্টে ফয়ছল আলম জানান, গত ১৭ মে যথাযথ নিয়ম মেনে টিকিট কেটে ইবনে সিনা হাসপাতালের রিকাবীবাজার শাখার পাঁচতলায় নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আওলাদ হোসেনের চেম্বারে যান তিনি। চিকিৎসক তাকে দেখেই পাঁচ হাজার টাকার বিভিন্ন টেস্ট (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) দেন এবং রিপোর্ট আসার আগেই ওষুধ খাওয়া শুরু করার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের কথামতো ওষুধ সেবনের তিনদিন পর থেকেই তার শরীরে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ডান হাত ও দুই পা কাঁপতে শুরু করে এবং হাঁটতে গিয়ে তিনি পেছনের দিকে হেলে পড়তে থাকেন। শারীরিক জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি ওষুধ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ হয়ে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে তাঁর কিছুটা বিলম্ব হয়।

বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের পীড়াপীড়িতে তিনি আবার ডা. আওলাদ হোসেনের চেম্বারে যান। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, চেম্বারের বাইরে অপেক্ষমাণ অন্য রোগীরাও তাকে বসার অনুরোধ জানান।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, চেম্বারে প্রবেশের পর ডা. আওলাদ হোসেন তাকে বসতে না দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেন এবং বলেন, “আপনি এমনিতেই দেরী করে আসছেন। তবু রিপোর্টটা দেখছি। এখানে দাঁড়ান। আপনার কোনো কথা শুনতে পারবো না। আবার টিকিট করে নিয়ে আসবেন, তখন সব বলতে পারবেন।”

এ সময় ফয়ছল আলম ওষুধ খাওয়ার পর তার শারীরিক জটিলতার কথা শুনতে একটু ‘কনসিডার’ করার অনুরোধ জানালে চারজন নারী রোগীর সামনে চিকিৎসক অত্যন্ত রুঢ়ভাবে বলেন, “নো চান্স, কোনো কথা নয়।” চিকিৎসকের এমন অমানবিক আচরণে ব্যথিত হয়ে তিনি তাঁর কাগজপত্র নিয়ে চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসেন। এই নিয়ে হাসপাতালের বাইরে উপস্থিত রোগীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরবর্তীতে হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ারের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিক ফয়ছল আলমকে উদ্ধার করে নিজের কক্ষে নিয়ে যান এবং ইবনে সিনা রিকাবীবাজার শাখার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নানের (আল হামরার এমডি ও দৈনিক জালালাবাদ-এর সাবেক এমডি) সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে দেন।

ফয়ছল আলম বলেন, “ভরসা ছিল উনি (আব্দুল হান্নান) সাবেক সহকর্মী হিসেবে ন্যায়বিচার করবেন, সান্ত্বনা দেবেন। কিন্তু উনি কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে চিকিৎসকের পক্ষ অবলম্বন করে আমাকে ‘সবর’ করার পরামর্শ দেন।” ক্ষোভ প্রকাশ করে ফয়ছল আলম তার পোস্টে ডাক্তারকে ‘টাকার পিশাচ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “যার বউ এমপি, তার কথায় তো সবর করতেই হবে। আমাদের মতো শত রোগীর অভিশাপের টাকায় তাদের সংসার চলে।”

সাংবাদিক ফয়ছল আলম জানান, তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবনে সিনার একটি কর্পোরেট চুক্তি থাকায় তিনি সেখানে যেতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার কর্পোরেট কার্ড প্রত্যাহার ও ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তার প্রতিষ্ঠানকেও এই ‘অমানবিক’ হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার আহ্বান জানান।

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. আওলাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেটের এজিএম ও হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মো. ওবায়দুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।