BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:১৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামে নিরাপদ জীবনের সন্ধান


মে ১২, ২০২৬ ৫:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিরাপত্তা মানুষের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। নিরাপত্তার সৌভাগ্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সমাজ-রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় জীবনে প্রশান্তি অর্জিত হয়। ইসলাম মানবজীবনের সর্বস্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। নিম্নে ইসলামের নিরাপত্তার নীতি ও তার সুফল তুলে ধরা হলো—

নিরাপত্তা ইসলামী শরিয়তের লক্ষ্য

ইসলামী শরিয়তসহ সব আসমানি ধর্ম মানুষের মৌলিক পাঁচটি প্রয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে, যা মাকাসিদুশ শরিয়াহ বা শরিয়তের উদ্দেশ্য নামে পরিচিত।

ইমাম শাতেবি (রহ.) বলেন, ‘উম্মত একমত, বরং সব ধর্ম একমত যে পাঁচটি জিনিসের নিরাপত্তার জন্য শরিয়ত প্রবর্তন করা হয়েছে। তা হলো দ্বিন, জীবন, বংশধারা, সম্পদ, জ্ঞান-বুদ্ধি।’ (কিতাবুল মুওয়াফাকাত : ১/৪১)
শরিয়তের প্রমাণগুলো, এর মূলনীতি ও বিধানাবলি—এসব প্রয়োজনের নিরাপত্তা ও স্থিতি প্রদান করে এবং সব ধরনের শৈথিল্য ও বিকৃতি রোধ করে।

মানবজীবনে নিরাপত্তার গুরুত্ব

মানবজীবনে নিরাপত্তার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সবকিছুর স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, জীবন-সমাজ-রাষ্ট্র সবই বিপর্যস্ত হয়। পাশাপাশি ক্ষুধা, সীমা লঙ্ঘন, আগ্রাসন, অধিকার হরণের মতো বিষয়গুলো বেড়ে যায়। এ জন্য ইবরাহিম (আ.) মক্কায় স্ত্রী-পুত্রকে রেখে আসার সময় যে দোয়া করেন তাতে জীবিকার ওপর নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, ‘স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! একে নিরাপদ শহর করো। আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান আনে তাদেরকে ফলমূল দ্বারা জীবিকা প্রদান করো।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১২৬)

সকাল-সন্ধ্যা নিরাপত্তার প্রার্থনা

মানবজীবনে নিরাপত্তা অপরিহার্য। এ জন্য মহানবী (সা.) উম্মতকে সকাল-সন্ধ্যা নিরাপত্তার দোয়া শিখিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এই দোয়াগুলো পড়তেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা এবং আমার দ্বিন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই।হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন।’
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৪)

তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) নতুন চাঁদ দেখে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের জন্য চাঁদটিকে বরকতময় (নিরাপদ), ঈমান, নিরাপত্তা ও শান্তির বাহন করে উদিত করুন। (হে নতুন চাঁদ) আল্লাহ আমার ও তোমার প্রভু।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

মানবজীবনে নিরাপত্তার নানা দিক

মানবজীবনে নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক এবং এ ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরা হলো—

১. দ্বিনি নিরাপত্তা : একজন মুমিনের কাছে দ্বিন ও ইসলামের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় বিষয়। কেননা এর ওপর মুমিনের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের মুক্তি ও সাফল্য নির্ভরশীল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৮২)

২. জীবনের নিরাপত্তা : ইসলাম একজন মানুষের জীবন সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জীবনের সমান মূল্যবান মনে করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে মানুষ হত্যা বা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করার কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করল সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকে হত্যা করল, আর যে কারো প্রাণ রক্ষা করল সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩২)

৩. সম্পদের নিরাপত্তা : জীবনের মতো ইসলাম মানুষের সম্পদের নিরাপত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ গুরুতর অপরাধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে পুরুষ ও যে নারী চুরি করে, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও, যাতে তারা নিজেদের কৃতকর্মের প্রতিফল পায় (এবং) আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। আল্লাহ ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩৮)

৪. পারিবারিক নিরাপত্তা : ইসলামী জীবনব্যবস্থায় পরিবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পরিবার ও পারিবারিক জীবন রক্ষা না পেলে মানুষের জীবনের সুখ ও স্বস্তি বলতে কিছুই থাকে না। পবিত্র কোরআনে পরিবারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদের, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল মানুষের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ২১)

৫. সামাজিক নিরাপত্তা : ইসলাম ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি মানুষের সম্মিলিত তথা সামাজিক জীবনেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ইসলামের শিক্ষা হলো প্রত্যেক মানুষ সমাজের জন্য নিরাপদ হিসেবে আবির্ভূত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। আর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার থেকে মানুষ তাদের জীবন ও সম্পদকে নিরাপদ মনে করে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৪৯৯৫)

৬. সম্মান ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা : ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন ও সম্পদের মতো সম্মান ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তাও অপরিহার্য। শরিয়তে অন্যের সম্মানহানি করা গুরুতর অপরাধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ রেখো, যারা চরিত্রবতী, সরলমতী মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত হয়েছে আর তাদের জন্য আছে ভয়ানক শাস্তি।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ২৩)

ভীতি প্রদর্শন মুসলমানের কাজ নয়

কোনো মুসলমানের জন্য অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করা অনুমোদিত নয়। এক সফরে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হাস্য-কৌতুকের অংশ হিসেবে একজনকে ভয় দেখান। তা থেকে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য অন্য কোনো মুসলমানকে ভয় দেখানো বৈধ নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩২)

নিরাপত্তার প্রশ্নে উচ্চ সতর্কতা

ইসলাম নিরাপত্তার প্রশ্নে সর্বোচ্চ সতর্কতার শিক্ষা দিয়ে থাকে এবং মানুষকে এমন সব কাজ পরিহার করতে বলে, যা অন্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন তার অন্য কোনো ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র উঠিয়ে ইশারা না করে। কারণ সে জানে না, হয়তো শয়তান তার হাতে ধাক্কা দিয়ে বসবে, ফলে (এক মুসলিমকে হত্যার কারণে) সে জাহান্নামের গর্তে পতিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০৭২)

অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি তীর সঙ্গে নিয়ে আমাদের মসজিদে কিংবা বাজারে যায়, তাহলে সে যেন তীরের ফলাগুলো ধরে রাখে কিংবা তিনি বলেছিলেন, তাহলে সে যেন তা মুষ্টিবদ্ধ করে রাখে, যাতে সে তীর কোনো মুসলিমের গায়ে না লাগে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০৭৫)

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।