আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার প্রথম দফার ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত সেখানকার রাজনীতি। গত রবিবার ঝাড়গ্রাম জেলায় মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্যকে ‘সুপরিকল্পিত নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বীরভূমের মুরারইয়ের সভা থেকে তিনি দাবি করেন, দোকানের ভেতর আগে থেকেই ক্যামেরা ও মাইক বসানো ছিল এবং ওই মুড়ি দোকানদার নন, বরং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি সদস্যরা তৈরি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পকেটে ১০ টাকা থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মোদির এই আচরণকে নির্বাচনি কৌশল আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের সময় তিনি কখনো ‘চাওয়ালা’ সাজেন, আবার কখনো গুহায় গিয়ে বসেন।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট হবে আগামী বৃহস্পতিবার। নির্বাচনের আগে শেষ ছুটির দিনে গত রবিবার প্রচারে বেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে যান মোদি। প্রচারের ফাঁকেই রাস্তার পাশের একটি দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে মুড়ি খেতে দেখতে প্রবল ভিড় জমে গেলে নিজে খাওয়ার পাশাপাশি ভিড়ের জনতার সঙ্গে সেই মুড়ি ভাগ করে খান। মুড়ি খাওয়া শেষ করে দোকানদার মুড়ির দাম হিসেবে ১০ রুপি দিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি পকেট থেকে ১০ টাকার নোট বের করে বিক্রম সাউ নামের ওই দোকানিকে দিচ্ছেন। এই দৃশ্য ঘিরেই কটাক্ষের সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর পকেটে কি আদৌ ১০ টাকা থাকে? মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যে দোকানের ভেতর আগে থেকেই ক্যামেরা ও মাইক ফিট করা থাকে, তা কখনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী যে ঝালমুড়ি খেয়েছেন তা ওই দোকানদারের বানানো নয়, বরং তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি জওয়ানরা আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, মোদি নির্বাচনের আগে নিজেকে কখনো ‘চাওয়ালা’ দাবি করেন, আবার কখনো কেদারনাথের গুহায় গিয়ে বসে থাকেন। এই সবকিছুই ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য সাজানো চিত্রনাট্য। এই ‘পরিকল্পিত রাজনীতির প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার প্রচারসূচি বদলে আজ মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যে বিক্রম সাউয়ের দোকানে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়েছেন, তার পাকা দোকানের বন্দোবস্ত রাজ্য সরকারের সৌজন্যেই হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বীরভূমের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কেবল মোদিকে আক্রমণই করেননি, বরং নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়েও সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার করার একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলও আইনি লড়াই লড়বে এবং ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে’ বুঝে নেবে। দলের কর্মীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, ভোট ও গণনার দিন তারা যেন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। প্রয়োজনে আগের দিন রান্না করে রাখতে বলেন তিনি, যাতে ভোটের দিন কোনো কাজে ফাঁকি না পড়ে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে দিল্লি থেকে বিজেপিকে হঠানোর ডাকও দেন তিনি।
একই সঙ্গে বীরভূমবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দ্বারকা নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন মমতা। তিনি জানান, ৫৬ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং নির্বাচনের পরেই কাজ শুরু হবে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
