BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এই সময়ের ধনী লেখক যারা


অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৬:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একটি ভালো বই একজন লেখককে খ্যাতি, পাঠকের ভালোবাসা ও পরিচিতি এনে দিতে পারে। তবে বিশ্বের কিছু লেখকের ক্ষেত্রে সাফল্য কেবল পরিচিতি ও পুরস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাদের বই বিক্রি হয়েছে কোটি কোটি কপি, তাদের গল্প থেকে তৈরি হয়েছে সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজ। আর সেখান থেকেই এসেছে বিপুল অর্থ।

রোমান্স, রহস্য, ভৌতিক গল্প থেকে থ্রিলার, নানা ধরনের লেখায় এসব লেখক বছরের পর বছর সেরা বিক্রিত বইয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের কেউ লিখেছেন শত শত বই, আবার কেউ একটি মাত্র সিরিজ দিয়েই বদলে ফেলেছেন নিজের জীবন।

সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১২ লেখকের তালিকায় কারা আছেন, দেখে নেওয়া যাক। এখানে মূলত যারা লেখক হিসেবেই পরিচিত, তাদের রাখা হয়েছে। অন্য পেশায় সফল হওয়ার পাশাপাশি লেখালেখি করেন, এমন ব্যক্তিদের এই তালিকায় রাখা হয়নি।

তালিকার শীর্ষে আছেন একসময় আর্থিক সংকটে থাকা জে কে রাওলিং। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বসে হ্যারি পটার সিরিজ লেখা শুরু করেছিলেন তিনি। পরে হ্যারি পটার হয়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র। বইয়ের এই সিরিজ পরিণত হয় বিশাল এক প্রকাশনা ও বিনোদন সাম্রাজ্যে।

এর পাশাপাশি রাওলিং করমোরান স্ট্রাইক নামে অপরাধভিত্তিক উপন্যাসও লিখেছেন। বই বিক্রি ও অন্যান্য স্বত্ব থেকে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার।

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জেমস প্যাটারসন। থ্রিলার, অপরাধ, রোমান্স ও তথ্যভিত্তিক বইসহ নানা ধরনের বই লিখেছেন তিনি। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। বিশ্বজুড়ে তার বই বিক্রি হয়েছে ৪২ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি কপি। বিপুল বই বিক্রির ফলে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি ডলার।

রোমান্টিক উপন্যাসের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ড্যানিয়েল স্টিল আছেন তৃতীয় অবস্থানে। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১৯০টি। এসব বইয়ের ৮০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি ডলার।

ব্রাজিলের লেখক পাওলো কোয়েলহোর নাম বাংলাদেশের পাঠকদের কাছেও বেশ পরিচিত। তার সবচেয়ে বিখ্যাত বই ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ বিশ্বের নানা দেশের পাঠকের কাছে জনপ্রিয়। কোয়েলহোর বই বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনূদিত জীবিত লেখকদের একজন। আনুমানিক ৫০ কোটি ডলার সম্পদ নিয়ে তিনি আছেন চতুর্থ অবস্থানে।

ভৌতিক গল্পের কথা উঠলে স্টিফেন কিংয়ের নাম আলাদা করে বলতে হয়। কয়েক দশক ধরে তার লেখা ভৌতিক, রোমাঞ্চ ও রহস্য উপন্যাস পাঠকদের মুগ্ধ করেছে। তিনি আছেন পঞ্চম অবস্থানে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘দ্য মাঙ্কি’, ‘দ্য লং ওয়াক’ এবং ‘দ্য রানিং ম্যান’-এর মতো তার গল্প বড় পর্দায় এসেছে। বই বিক্রি ও চলচ্চিত্রের স্বত্বসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার।

আইনভিত্তিক রোমাঞ্চকর উপন্যাস লেখার জন্য বিখ্যাত জন গ্রিশাম আছেন ষষ্ঠ অবস্থানে। তার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ফার্ম’, ‘দ্য ক্লায়েন্ট’ এবং ‘দ্য পেলিক্যান ব্রিফ’। তার লেখা টানা ৩৭টি বই সেরা বিক্রিত বইয়ের তালিকায় এক নম্বরে উঠেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪০ কোটি ডলার।

রোমান্টিক উপন্যাসের আরেক জনপ্রিয় লেখক নোরা রবার্টস আছেন সপ্তম অবস্থানে। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। তিনি জে ডি রব, জিল মার্চ এবং সারা হার্ডেস্টি নামেও লিখেছেন। দীর্ঘ লেখকজীবন ও বিপুল বই বিক্রির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সম্পদ। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪০ কোটি ডলার।

ভৌতিক গল্প, কল্পবিজ্ঞান, কল্পকাহিনি ও রহস্য, নানা ধরনের গল্প লিখেছেন ডিন কুন্টজ। তিনি আছেন অষ্টম অবস্থানে। তার প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা ১০৫টির বেশি। বিশ্বজুড়ে তার বই ৪৫ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে তালিকাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ডলার।

জেফরি আর্চার কেবল লেখক নন, একসময় ব্রিটিশ রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন। জীবনে নানা বিতর্ক ও আইনি সমস্যার মুখোমুখি হলেও লেখক হিসেবে তার সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘কেন অ্যান্ড অ্যাবেল’-এরই ৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে তালিকাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ডলার। শীর্ষ ধনী লেখকদের তালিকায় তিনি আছেন নবম অবস্থানে।

শিশু-কিশোরদের ভৌতিক গল্পের সঙ্গে যারা পরিচিত, তাদের কাছে আর এল স্টাইনের নাম খুবই পরিচিত। তাকে প্রায়ই শিশুকিশোর সাহিত্যের ‘স্টিফেন কিং’ বলা হয়। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিজ ‘গুজবাম্পস’। ভয় ও রহস্যে ভরা এই সিরিজ বিশ্বের অসংখ্য শিশুর পাঠাভ্যাসে জায়গা করে নিয়েছে। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ডলার। এই তালিকায় তিনি আছেন দশম অবস্থানে।

‘দ্য ভিঞ্চি কোড’ প্রকাশের পর ড্যান ব্রাউন বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠেন। বইটি প্রকাশনা জগতে ব্যাপক সাফল্য পায়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র রবার্ট ল্যাংডনকে নিয়ে তিনি পরে আরও কয়েকটি উপন্যাস লেখেন। তার বই ২৫ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে তালিকাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ডলার। তিনি আছেন ১১তম অবস্থানে।

‘ফিফটি শেডস’ সিরিজের লেখক ই এল জেমস এই তালিকার শেষ নাম। এই সিরিজের শুরুটা অবশ্য স্বতন্ত্র উপন্যাস হিসেবে হয়নি। এটি প্রথমে ‘টোয়াইলাইট’ সিরিজকে কেন্দ্র করে লেখা ভক্তদের গল্প ছিল। পরে সেটিকে পরিবর্তন করে স্বতন্ত্র উপন্যাস হিসেবে প্রকাশ করা হয়। ‘ফিফটি শেডস’ সিরিজের বিপুল জনপ্রিয়তা ও চলচ্চিত্রে রূপান্তরের ফলে ই এল জেমসের সম্পদও দ্রুত বেড়ে যায়। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ডলার।

এই তালিকার লেখকদের দিকে তাকালে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়। একজন জনপ্রিয় লেখকের আয় কেবল বই বিক্রির টাকা থেকে আসে না। একটি বই সফল হলে সেটি অন্য ভাষায় অনূদিত হতে পারে, তা থেকে তৈরি হতে পারে সিনেমা বা টেলিভিশন সিরিজ। চরিত্র ও গল্পের স্বত্ব থেকেও লেখক অর্থ পেতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বইয়ের জনপ্রিয়তা কয়েক দশক ধরে লেখকের আয় বাড়াতে থাকে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।