প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের মেনেজ করে কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে দুজন গ্রেড-১ কর্মকর্তা এবং প্রায় ১০ জন সিনিয়র গ্রেড কর্মকর্তাকে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে পাশ কাটিয়ে এক চরম বিতর্কিত ও জুনিয়র কর্মকর্তা আহসান হাবীবকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, এই নিয়োগের নেপথ্যে রয়েছে বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন। বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান গং পতিত সরকারের গোপন আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ (সুক্ষ্ম নীল নকশা) তৈরি করেছে। পিএম অফিসের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) ভেতরে থাকা একটি প্রভাবশালী চক্র এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্দার আড়াল থেকে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে এবং প্রায় কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে ওই সুত্রের দাবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই নিয়োগের মাধ্যমে মূলত বর্তমান সরকারকে এক সমূহ বিপদের মুখে ফেলার ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়ন শুরু হলো, যার মূল কারিগর সদ্য বিদায়ী এনবিআর চেয়ারম্যান ও চিহ্নিত আওয়ামী দোসর আবদুর রহমান খান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব মাত্র চলতি বছরের এপ্রিল মাসে গ্রেড-২ কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। রাজস্ব বোর্ডে তাঁর চেয়ে যোগ্য এবং জ্যেষ্ঠ ডজনখানেক কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান যখন বুঝতে পারেন যে তাঁর মেয়াদ আর বাড়ছে না, তখনই তিনি নিজের সিন্ডিকেট ও অপকর্ম আড়াল করতে আহসান হাবীবকে সামনে নিয়ে আসেন। আর এই মিশন সফল করতে তিনি বিএনপি ঘরনার জয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে মেনেজকরে একাজ করেছেন।
এদিকে আহসান হাবীব এনবিআরের শীর্ষ পদে বসার পরপরই প্রশাসনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত পিরোজপুরের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
এই অভিনন্দনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, পতিত আওয়ামী সরকারের অতি বিশ্বস্ত পাত্র হিসেবে যিনি সরকারি খরচে ৫০ বারের বেশি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন, তাঁর হাত দিয়ে কি এস আলম, মহিউদ্দিন মহারাজ কিংবা পিকে হালদারদের মতো বড় বড় অর্থ পাচারকারী ও ঋণখেলাপিদের ফাইল কখনো আলোর মুখ দেখবে? নাকি এই নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির ফাইল চিরতরে ধামাচাপা দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হলো!
সচেতন মহল মনে করছেন, বর্তমান সরকারকে কর ও রাজস্ব খাতে ব্যর্থ প্রমাণ করে পতন ত্বরান্বিত করতেই প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী সিন্ডিকেট এই আত্মঘাতী চাল চেলেছে। অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করা না হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
