বিডিসিলেট ডেস্ক: ওয়াক্ফ এস্টেট এর অজুহাতে সাধারণ মুসল্লিদের অনুদানে নির্মিত সিলেট মহানগরীরর জল্লারপার জামে মসজিদের নানা প্রকার অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) দুপুরে ১১.৩০ ঘটিকায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের নিকট এই স্মারকলিপি প্রদান করেন জল্লারপারের বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের।
স্মারকলিপির বিষয়বস্তুঃ ওয়াক্ফ নিবন্ধিত সিলেট জেলায় অবস্থিত আমীরুল হোসেন গং (ইসি নথি নং ১২৮০৫) ওয়াক্ফ এস্টেট এর জল্লারপার জামে মসজিদের মুসল্লি ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে নিজের সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। মসজিদের উন্নয়ন কাজে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জল্লারপার, দাড়িয়াপাড়া, জামতলা, মির্জাজাঙ্গাল ও জিন্দাবাজার সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মুসল্লি ও জনসাধারণ নিয়মিত সরাসরি ও রশিদের মাধ্যমে দান-সাদকা করে নবনির্মিত মসজিদের নির্মাণে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ২০১০ সাল হতে মসজিদ পূর্ণঃনির্মাণকালীন সময় থেকে নিয়মিত মসজিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তন্মধ্যে কয়েক বছর মসজিদের সামনে মাইকিং করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, পাঁচভাই রেস্টুরেন্টের দানবাক্স, পানসী রেস্টুরেন্টের দানবাক্স, ভোজনবাড়ি (বর্তমান রাজবাড়ী) রেস্টুরেন্টের দানবাক্স, লিয়াকত ভবনের দানবাক্স, ডাঃ আব্দুল হক সাহেবের চেম্বারের দানবাক্স, মসজিদের চারটি দানবাক্স, প্রতিবছরে শবে বরাতের রাতে সংগ্রহকৃত অর্থ, প্রতি শুক্রবারের সংগ্রহকৃত অর্থ ও পূর্ণঃনির্মাণের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শুক্রবার জুম’আ সহ বিভিন্ন নামাজের ওয়াক্তে মাইকিং করে মসজিদের উন্নয়নের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সেই টাকার পূর্ণ বিবরণ সহ ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত তদন্ত সাপেক্ষে পূণরায় পূর্ণহিসাব জল্লারপার জামে মসজিদের সাধারণ মুসল্লিদের সামনে আপনার মাধ্যমে প্রকাশ করার অনুরোধ করছি। আজ পর্যন্ত মোতাওয়াল্লী বা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জল্লারপার জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজের জমা খরচের কোনো হিসাব মুসল্লীদেরকে অবহিত করা হয়নি। এতে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। আশাকরি যা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমানিত হবে। জল্লারপার জামে মসজিদের পূর্ণহিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা স্থানীয় মুসল্লি সহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দাবি। সাথে জনসম্মুখে মসজিদ পরিচালনা কমিটির মেয়াদ ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের পরিচয় প্রকাশ করাও প্রয়োজন বলে আমরা মনেকরি। ১৮ নভেম্বর ২০২৪ সোমবার দুপুর ১২.০৩ ঘটিকায় জল্লারপার জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী বরাবরে জমা খরচের হিসাব চেয়ে দরখাস্ত প্রদান করিলে তিনি নানারকম অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রদর্শন করে তা গ্রহণে অস্বীকার করেন। তারপর তৎকালীন জেলা প্রশাসক, সিলেট বরাবরে এবং ওয়াক্ফ পরিদর্শক, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা বরাবরে আবেদন প্রদান করি। এরপরও আজ পর্যন্ত মোতাওয়াল্লী ও মসজিদ কমিটি কর্তৃক কোনো প্রকার হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি। এতদ্বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি। জল্লারপার জামে মসজিদের ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আজ পর্যন্ত মসজিদের জমা খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব আপনার মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকাশ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
