BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৪৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৌলভীবাজারে উজাড় করা হচ্ছে সংরক্ষিত বন


মে ১৩, ২০২৬ ৪:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সবুজ চা-বাগান, পাহাড় আর বনের অপরূপ সৌন্দর্যের জেলা মৌলভীবাজার। কিন্তু সেই সবুজের আবরণ ক্রমেই মলিন হয়ে যাচ্ছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ জেলার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ ও বাঁশ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এতে ধ্বংসের মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ।

সংরক্ষিত বনের গাছ ও বাঁশ চুরি হলেও বন বিভাগের মতে, জনবল সংকটের কারণে চুরি বন্ধ করতে পারছেন না তারা।

মৌলভীবাজারে মোট চারটি রেঞ্জ রয়েছে -রাজকান্দি, জুড়ী, বড়লেখা ও কুলাউড়া। কিন্তু বিস্তীর্ণ ও দুর্গম হওয়ায় এসব বনাঞ্চল এখন পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এইসব দুর্গম এলাকায় মানুষ তেমন যেতে পারে না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে পাচারকারীরা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বছরের পর বছর গাছ-বাঁশ উজাড় করে আসছে তারা। দায়িত্বরত বন বিভাগ এসব বিষয় জানলেও নেয়নি তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ।

সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বিটের কোনাগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া বা পাহাড়ি ঝিরি ব্যবহার করে বাঁশ ভাসিয়ে আনা হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক সেই বাঁশ তুলে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন। পরে ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে করে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি আহাদ মিয়া দাবি করেন, বাঁশগুলো সংরক্ষিত বন থেকে আনা হয়নি, এগুলো কিনে আনা হয়েছে বিভিন্ন বাড়ি থেকে। তবে এলাকাবাসীরা জানান, এই বাঁশ ঝিরি বা ছড়া দিয়ে সরাসরি বন থেকে আনা হয়েছে।

তারা আরো বলেন, বৃষ্টি হলে ছড়ায় পানি বাড়ে আর সেই সুযোগে বাঁশ ভাসিয়ে সহজেই পাচার করা হয়।

শুধু রাজকান্দি রেঞ্জে নয়, জেলার জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া রেঞ্জসহ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে হরহামেশাই দেখা মিলে এমন চিত্রের। বনের ভেতর থেকে বাঁশ ও গাছ উজাড় করা হচ্ছে নিয়মিত।

স্থানীয় পরিবেশবাদী কর্মীরা জানান, লাউয়াছড়া বনের ভেতর চুরি হওয়া অর্ধশতাধিক গাছের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে একদিকে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে প্রাণীদের আবাসস্থল। অবাধে গাছ, বাঁশ ও বেত উজাড় হলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বনউজাড় হলেও তেমন প্রতিবাদ দেখা যায় না। স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বন থেকে গাছ ও বাঁশ পাচার হয়। বিশেষ করে বৃষ্টি হওয়ার পর ছড়া বা নদীতে পানির স্রোত থাকায় সহজেই বাঁশ কেটে পাচার করা যায় পানিপথে। আর রাতের অন্ধকারে সারা বছর গাছ কাটা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর জাতীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, গাছ ও বাঁশ পাচার শুধু বন নয়, পুরো পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাণীকুলের জন্য হুমকি। পাচারকারীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। বন বিভাগকে শক্ত হাতে এই চুরি বন্ধ করতে হবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, আমাদের তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব কাজে জড়িত। তবে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।