BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিম্নমানের বীজে কৃষকের স্বপ্ন ভেস্তে গেছে


এপ্রিল ১১, ২০২৬ ৩:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তরমুজের নিম্নমানের বীজের কারণে ভালো ফলন হয়নি। যা হয়েছে তাও অপুষ্ট। সম্প্রতি হাজীপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমরান আহমদ তার ক্ষেতের অপুষ্ট তরমুজ দেখাচ্ছেন। ছবি: কালের কণ্ঠ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরবরাহ করা রবি মৌসুমে বীজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের বীজ ব্যবহারের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকের।

সম্প্রতি সরেজমিনে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মাহতাবপুর, ইসমাইলপুর ও রজনপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষিজমিতে কৃষকের তরমুজ ও টমেটো চাষে কাঙ্খিত ফলন হয়নি। অনেক জমিতে বীজের অঙ্কুরোদগম হয়নি, আবার কোথাও গাছ বড় হলেও ফলন খুবই কম।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করায় এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির অভাবে সঠিক সময় পরামর্শ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।

স্থানীয় ইমরান আলী ও হাসান আহমদসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, তারা কুলাউড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া বীজের ওপর আস্থা রেখে চাষাবাদ করেন। কিন্তু মৌসুম শেষে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ জমিতে বীজের মান ভালো না হওয়ায় উৎপাদন আশানুরূপ হয়নি।

হাজীপুর ইউনিয়নের মনু বাজারের কৃষক ইমরান আহমদ (৪৪) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩০ শতক জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছি। কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করেছি। কিন্তু বীজ নিম্নমানের হওয়ায় ভালো ফলন পাইনি। তিনি বলেন, অনেক স্বপ্ন ছিল ভালো ফলন হলে তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হবো। নিম্নমানের বীজের কারণে সেই স্বপ্ন ভেস্তে গেছে।

হাসান আহমদ (২৫) নামের এক কৃষক বলেন, আমি ১৫ শতক জমিতে টমেটোর প্রায় দুই হাজার চারা রোপণ করেছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও গাছে কাঙ্খিত ফল আসেনি। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

কুলাউড়ার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের কৃষি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হেলাল খান বলেন, ভালো বীজে ভালো ফলন হয়।

কুলাউড়ার মনুনদী তীরসহ এসব এলাকার জমি কৃষি উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। এখানকার মাটি উর্বর ও কৃষকরা অনেক অভিজ্ঞ। ভালো বীজ না থাকায় ফলন ভালো হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। যাচাই-বাছাই করে কৃষকদের উন্নতমানের বীজ ভালো কম্পানি থেকে কেনা হয়। সুপ্রিম সিড থেকে ড্রাগন কিং জাতের তরমুজের বীজ ও ইউনাইটেড সিড থেকে জিকো ১০ জাতের টমেটোর বীজ কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই বীজ থেকে পরিপক্ক ফলন না হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কম্পানির কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন কৃষক ইউএনওর কাছে এসেছিলেন। তাদের কথা শোনার পর ইউএনও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সহায়তা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তরমুজ শীতকালীন ফসল। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে রোপণ করায় এবং টানা শিলাবৃষ্টি হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ফলন কম হতে পারে। আমরা কৃষকদের ভালো বীজ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন কৃষক আমার কার্যালয়ে এসে তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়া আগামীতে কৃষকদের মধ্যে ভালোমানের বীজ সরবরাহ করার পরামর্শ দিয়েছি।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।