নিষিদ্ধ বিরোধী সংগঠন পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান-এর সদস্য হওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। তারা হলেন আবোলহাসান মন্তাজের এবং ভাহিদ বানিয়ামেরিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে চলতে থাকলেও ভিন্নমত দমন অভিযানের অংশ হিসেবে এটি সবশেষ পদক্ষেপ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইন এ তথ্য জানায়।
এর আগে তাদের ‘একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহে অংশগ্রহণ’-এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। পরে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত আগের রায় বহাল রাখে।
পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবকে সমর্থন করেছিল, যার মাধ্যমে ইরানের রাজতন্ত্র উৎখাত করা হয়। তবে ১৯৮০-এর দশকে তারা তেহরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।।
এর পর থেকে পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান সংগঠনটি নির্বাসনে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এর আগে ৩০ ও ৩১ মার্চ সংগঠনটির দোষী সাব্যস্ত আরও চার সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তারা হলেন- মোহাম্মদ তাঘাভি, আকবর দানেশভারকার, বাবাক আলিপুর এবং পুয়া ঘোবাদি।
এই ছয়জনকেই ২০২৪ সালের শেষ দিকে গ্রেপ্তার করে এবং একটি বিপ্লবী আদালত দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সংগঠনটি ২ এপ্রিল দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানায় এবং তেহরানের এই পদক্ষেপকে বিরোধীদের দমন করার একটি ‘ব্যর্থ’ চেষ্টা বলে উল্লেখ করে।
পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান বলছে, ‘এই নির্মম মৃত্যুদণ্ডগুলো বিরোধীদের চুপ করাতে পারবে না; বরং এগুলো ইরানের বিদ্রোহী তরুণদের মধ্যে শাসনব্যবস্থা উৎখাতের সংকল্প আরও শক্তিশালী করবে।’ সূত্র: আল জাজিরা
