স্পোর্টস ডেস্ক : ইন্টারন্যাশনাল লীগ (আইএল) টি-টোয়েন্টিতে গতকাল দুর্দান্ত একটি দিন কাটায় বাংলাদেশি ক্রিকেটার। গালফ জায়েন্টের বিপক্ষে দুবাই ক্যাপিটালসের জয়ের দিনে বোলিংয়ে মুগ্ধতা ছড়ান টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ৩.৫ ওভারে ৩৪ রানে নেন ৩ উইকেট তিনি। এতে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠে কাটার মাস্টারের হাতে। আরেক ম্যাচে এমাআই এমিরেটসের হয়ে ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ১৪ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন আরেক টাইগার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।
গতকাল আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে দুবাই ক্যাপিটালসের ৬ উইকেটের জয়ে মোস্তাফিজ দুর্দান্ত বোলিং করেন। এই ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় দুইয়ে ওঠে এসছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। আইএল টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৮.২৯ ইকোনমিতে ১৪ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ১৫ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী তার সতীর্থ ওয়াকার সালামখেইল। ম্যাচসেরা হওয়ার পর মোস্তাফিজ বলেন, ‘এই স্লোয়ার ডেলিভারি (কাটার) আমার ন্যাচারাল (স্বাভাবিক)। আমি বিশ্বাস করি আমি এর মাধ্যমেই সফল হতে পারব।
আমি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়ে দলে অবদান রাখার চেষ্টা করি, যখনই প্রয়োজন হয়।’ আরেক ম্যাচে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে এমআই এমিরেটসের হয়ে বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন সাকিব। চার ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পুরো স্পেলে কোনো চার বা ছক্কা হজম না করে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর লাগাম টেনে ধরেন তিনি। সাকিবের করা ২৪ বলের মধ্যে ১২টিই ছিল ডট বল। সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম সাফল্য পান তিনি। ওভারের শেষ বলে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে আইএল টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম উইকেট শিকার করেন সাকিব। ওই ওভারে দেন মাত্র পাঁচ রান। এরপর নবম ওভারে স্যাম কারানের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট নিশ্চিত করেন, যেখানে রান দেন মাত্র তিন। বাকি দুই ওভারেও সমান তিন রান করে দিয়ে ভাইপার্সের ইনিংসে চাপ আরও বাড়ান।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ডেজার্ট ভাইপার্স সাত উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান করে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এমআই এমিরেটস ছয় উইকেট হারালেও ১৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনে অবদান রাখেন সাকিব। শেষদিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ২৫ বলে অপরাজিত ১৭ রান করেন তিনি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই। ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, ‘প্রথমত আমি এমআই এমিরেটসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য। দলে সুযোগ পাওয়া অনেক কঠিন কারণ এটি একটি তারকাখচিত দল। তাই কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পেরে আমি খুশি।’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের দিক থেকে সাকিব আল হাসান জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের সেরা তালিকায়। এখন পর্যন্ত ৪৬৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে তিনি ৪৫ বার ম্যাচসেরা নির্বাচিত হলেন, যা তাকে এই ফরম্যাটে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচসেরা পাওয়া ক্রিকেটারদের কাতারে রেখেছে। এই তালিকায় সাকিবের পাশে রয়েছেন আফগান তারকা রশিদ খান ও ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস। রশিদ ৫০৪টি ম্যাচ এবং হেলস ৫২৪টি ম্যাচ খেলে দুজনই সমান ৪৫ বার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন।
সাকিবদের ঠিক ওপরে অবস্থান করছেন দুই পাওয়ারহিটার অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও কায়রন পোলার্ড। তারা দুজনই ৪৮ বার করে ম্যাচসেরা হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরা জয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি এককভাবে ধরে রেখেছেন ক্রিস গেইল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সাবেক বিধ্বংসী ব্যাটার ক্যারিয়ারে মোট ৬০ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন।
