BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৫৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কায়স্থরাইল মসজিদের মোতায়াল্লী হলেন আ. লীগ নেতা


সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ১:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও তার অনুসারীরা এখন ঘাপটি মেরে বসে আছে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্থানে। বিশেষ করে তৃণমুলের মসজিদ-মাদ্রাসা-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান আঁকড়ে রাখতে মরিয়া তারা। সামাজিকতার আড়ালে তাদের এহেন অপ-তৎপরতায় চাপা উত্তেজনা এখন বাস্তবতা। এরমধ্যে দিয়ে জুলাই শক্তিকে বিভক্তি সহ বিভিন্নভাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে অনেকটা প্রকাশ্যে। এমন এক ঘটনায় তোলপাড় চলছে সিলেট নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডের কায়েস্থরাইল জামে মসজিদ ঘিরে।

ওয়াকফ এষ্টেইট দাউদপুর,মোছারগাও,বারখলা মসজিদের মোয়াতওল্লী কবির উদ্দিন মিনু একজন চিন্থিত ডেভিল। ওই ওয়ার্ডের আলোচিত আওয়ামীলীগ নেতা ছিলেন তিনি। চলতি বছরে ২ জানুয়ারী মোতায়াল্লী হিসেবে তার মেয়াদ উর্ত্তীন হলেও এখনও পদ আঁকড়ে রয়েছেন তিনি। তার বিরুেদ্ধ রয়েছে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার মত অর্থ লুটের অভিযোগ। এছাড়া তার স্বেচ্ছাচারিতায় অতীষ্ট স্থানীয় পঞ্চায়েতবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ জোরপূর্বক মোতায়াল্লী পদ দখলে রাখা এই আওয়ামীলীগ নেতা বিগত ২০২৪ সালের পাঁতানো আমি-ডামি নিবার্চনে আহবায়ক ছিলেন সেন্টার কমিটির। আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও সাবেক এমপি মন্ত্রীপলাতক ড. একেএম আব্দুল মোমেনের প্রভাবে স্থানীয় বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে রাখতেন দৌড়ের উপর।

কথায় কথায় করতেন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে তার লোকদের নিয়ে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পুলিশকে তথ্য দিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া করেন স্থানীয় আন্দােলনকারীদের। কিন্তু পট পরিবর্তনের পর কিছুদিন পালিয়ে বেড়ালেও পরে স্বরূপে ফিরে আসেন তিনি। স্থানীয়দের বলেন, মসজিদ মোতায়াল্লীর দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য এলাকায় এসেছেন তিনি। এরমধ্যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগীদের ম্যানেজ করে প্রভাব বিস্তারের সক্রিয় হয়ে উঠেন এলাকায়। মসজিদের নতুন কমিটি গঠনের নামে বারবার বৈঠক করছেন তার অনুসারী ডেভিলদের নিয়ে। এ বৈঠকের আড়ালে মুলত আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিয়ে শলা-পরামর্শের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এনিয়ে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় একাধিকবার তথ্য জানালেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন। ডেভিল মিনু সুংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের ওয়ারেন্ট অফিসার ডেভিলদের কাছ থেকে মাসোহারার বিনিময়ে সুরক্ষা দিচ্ছেন। এতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে স্থানীয় ডেভিলরা। ডেভিল মিনু ইতিমধ্যে এলাকায় অস্থিরতা লাগাতে মসজিদের ২ জন ইমামকে চাকুরী থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তিনি। নিজে নামাজি নয় তারপরও আওয়ামীলীগের প্রভাবে মোতায়াল্লীর পদ বাগিয়ে নেয় ওয়াকফ প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের চাপে ফেলে ডেভিল মিনু। অথচ মসজিদের পাশে রয়েছে তার নিজস্ব দোকান। ব্যবসায়িক ব্যস্ততার অজুহাতে নামাজের জামাতে শরীক হন না তিনি। মসজিদে ইনকামের হিসেব তার কাছে চাইতে গেলে নানাভাবে পরিবেশ পরিস্থিতি বিগড়ে রাখতেন তিনি। আজ অবধি হিসেবও দিচ্ছেন না পদও ছাড়ছে না ওই ডেভিল মিনু। মসজিদের উন্নয়ন কাজে কোন পরামর্শ গ্রহনে কাউকে পাত্তা দেয়ার নজির দেখায়ন তিনি। এ নিয়ে কিছু বললে ধমক সহ মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখাতেন মিনু। তার এহেন অপকর্মের সহযোগী আমেরিকা প্রবাসী আলাউদ্দিন উরফে আলাই। আলাইও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা। পতিত শেখ হাসিনার ক্ষমতাকালে সিলেটের প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের দাওয়াত দিয়ে জামাই আদর করতেন তিনি। মজিদের বিপুল পরিমান অর্থ তছরূপের অভিযোগ রয়েছে মিনু ও আলাই এর বিরুদ্ধে।

মসজিদের স্থানীয় মুসল্লীরা জানান, ডেভিল মিনু ও তার সহযোগী আলাই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা চেষ্টা করছে। নানাভাবে সামাজিক বিভক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে। আমার মসজিদ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবগত করেছি। সমাধান না হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এর দায় নিতে হবে তাদের কে ।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।